যু্ক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত দাবি-দাওয়া বাদ দিতে হবে: ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি সোমবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতি তার দাবি কমাতে হবে, কারণ দুই মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা স্থবির হয়ে আছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এই পর্যায়ে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো যুদ্ধ শেষ করা। অন্য পক্ষকে যুক্তিসঙ্গত অবস্থান নিতে হবে এবং ইরান সম্পর্কিত অতিরিক্ত দাবি পরিত্যাগ করতে হবে।

দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই স্থবির রয়েছে, এখন পর্যন্ত মাত্র এক দফা সরাসরি শান্তি আলোচনা হয়েছে।

একটি প্রধান জটিলতা হলো হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর থেকে ইরান এই জলপথ কার্যত নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, ফলে তেল, গ্যাস ও সার পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দিতে এগিয়ে আসবে, যার জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনী হামলার হুমকি দিয়েছে।

বাকায়ি বলেন, এখন পর্যন্ত আমেরিকানদের বুঝে যাওয়া উচিত ছিল যে তারা ইরানি জাতির বিরুদ্ধে হুমকি ও শক্তির ভাষা ব্যবহার করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান নিজেকে হরমুজ প্রণালির রক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে মনে করে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

তার মতে, যুদ্ধের আগে এই প্রণালী আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘নিরাপদ ও সুরক্ষিত পথ’ ছিল।

ইসরায়েলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এই জলপথে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও বিশ্বজুড়ে সমস্যা তৈরি করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্তরাষ্ট্র ও তথাকথিত জায়নিস্ট শাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

ট্রাম্পের জাহাজ এসকর্ট পরিকল্পনা ঘোষণার আগেই বাকায়ি জানান, তেহরান যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে ১৪ দফা প্রস্তাব দিয়েছে এবং ওয়াশিংটন পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এর জবাব পাঠিয়েছে।