মোজতবা খামেনিকে খুঁজে বের করে হত্যা করবে ইসরায়েল
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে খুঁজে বের করে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হবে। এর আগে তারা দাবি করেছিল যে একটি বিমান হামলায় ইরানের প্রভাবশালী জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিকে হত্যা করা হয়েছে।
লারিজানির মৃত্যু নিশ্চিত হলে এটি ইরানের জন্য বড় ধাক্কা হবে, কারণ দেশটির দীর্ঘদিনের নেতা আলি খামেনি মাত্র তিন সপ্তাহেরও কম আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূচনা করে।
এই হত্যাকাণ্ডের খবরে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। একই সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্রদের সমালোচনা করেন, কারণ তারা তেলবাহী জাহাজ রক্ষায় তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।
তেহরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে লারিজানির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি, তবে দেশজুড়ে জনগণকে ‘শত্রুর ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন বলেন, “আমরা মোজতবা খামেনিকে দেখি না, শুনি না—কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত: আমরা তাকে খুঁজে বের করব এবং নিষ্ক্রিয় করব।”
অন্যদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে তারা তেহরানের আশপাশে ইরানের বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর অবস্থানে হামলা চালাচ্ছে এবং ওই বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি নিহত হয়েছেন। পরে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ইরান পাল্টা হিসেবে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে হরমুজ প্রণালি—যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়—ফলে তেলের দাম বেড়ে গেছে।
এদিকে লেবাননও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়েছে খামেনেয়ির হত্যার প্রতিক্রিয়ায়। এর জবাবে ইসরায়েল হামলা বাড়িয়েছে এবং স্থলবাহিনী মোতায়েন করেছে।
লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তাদের ছয়জন সেনা নিহত হয়েছে। দেশটিতে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, এবং ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৮৮৬ জন নিহত হয়েছে বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
