অবমুক্ত সম্পদের ব্যবহার নির্ধারণ করবে ইরান নিজেই: রাষ্ট্রদূত

ইরানের এক রাষ্ট্রদূত মঙ্গলবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির অংশ হিসেবে অবরুদ্ধ (ফ্রোজেন) সম্পদ মুক্ত হলে সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে সিদ্ধান্ত একমাত্র তেহরানই নেবে—যা যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি বিরোধ সৃষ্টি করেছে।

চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ইরানের জন্য প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার জব্দকৃত তহবিল মুক্ত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মঙ্গলবার জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথাও বলা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সোমবার বলেন, এখনো ইরানের সম্পদ আনফ্রিজ করা হয়নি। যদি তা করা হয়, তবে সেই অর্থ মার্কিন পণ্য—যেমন সয়াবিন—ক্রয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে এবং এটি সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের জন্য ব্যবহৃত হবে না।

এর জবাবে ইরানের জাতিসংঘে জেনেভা-ভিত্তিক রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেইনি সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, “ইরানই একমাত্র দেশ যারা সিদ্ধান্ত নেবে তাদের মুক্ত হওয়া সম্পদ কীভাবে ব্যবহার করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ওয়াশিংটনের এমন কোনো দাবি আমি প্রত্যাখ্যান করছি যে অন্য কোনো দেশের এই সিদ্ধান্ত বা প্রক্রিয়ায় কোনো ভূমিকা থাকবে।”

ইরান ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের মুখে রয়েছে।

আল-বাহরেইনি আরও জানান, সুইজারল্যান্ডে চলমান শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে “ভালো অগ্রগতি” হয়েছে।

তিনি বলেন, “গতকাল আমাদের সহকর্মীরা কারিগরি পর্যায়ে খুব ভালো আলোচনা চালিয়ে গেছেন।” তিনি আরও জানান, আগামী দিনে দুইটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে, যেগুলো ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির পারমাণবিক কার্যক্রম-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে।