ইরানের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক সক্ষমতা গুড়িয়ে দেওয়ার দাবি নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ২০ দিনের বিমান হামলার পর ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা হারিয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা জয়ী হচ্ছি, এবং ইরান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা এখন যেগুলো ধ্বংস করছি সেগুলো হলো সেই কারখানাগুলো, যেখানে এসব ক্ষেপণাস্ত্র এবং তারা যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার চেষ্টা করছে তার উপাদান তৈরি হয়।”

তবে ইরানের আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা নেই—এই দাবির পক্ষে নেতানিয়াহু কোনো প্রমাণ দেননি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মধ্যস্থতাকারী আলোচনাই ছিল মূল বিষয়, যা শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারেও ট্যাংকার চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

প্রায় তিন সপ্তাহের এই যুদ্ধ সত্ত্বেও, ইরানের জনগণ সরকার পতনের লক্ষ্যে রাস্তায় নামবে কি না—এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা খুব তাড়াতাড়ি বলে মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, “এটা ইরানি জনগণের ওপর নির্ভর করে—তারা কখন এবং কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে।”

এখন পর্যন্ত যুদ্ধ মূলত বিমান হামলার মাধ্যমে পরিচালিত হলেও, নেতানিয়াহু বলেন স্থল অভিযানও প্রয়োজন এবং “এ ধরনের স্থল অভিযানের জন্য অনেক সম্ভাবনা রয়েছে,” যদিও তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্বের ভেতরে “ফাটল” দেখা যাচ্ছে এবং দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা এখনো প্রকাশ্যে আসেননি।

নেতানিয়াহু বলেন, “আমি নিশ্চিত নই এখন ইরান কে পরিচালনা করছে। মোজতবা—যাকে বিকল্প আয়াতোল্লাহ বলা হচ্ছে—তিনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি। আমরা দেখছি শীর্ষ নেতৃত্বে অনেক টানাপোড়েন চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই ফাটল দেখতে পাচ্ছি এবং যত দ্রুত সম্ভব তা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছি—শুধু শীর্ষ পর্যায়েই নয়, মাঠ পর্যায়েও।”

যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংঘাতে টেনে আনার অভিযোগও অস্বীকার করেন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, “কেউ কি সত্যিই মনে করে যে কেউ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী করতে হবে তা বলে দিতে পারে?”

শেষে তিনি যোগ করেন, “আমি মনে করি এই যুদ্ধ মানুষের ধারণার চেয়ে অনেক দ্রুত শেষ হবে।”