মার্কিন-কাতারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে লেবাননিজ প্রেসিডেন্টের আলোচনা

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সোমবার মার্কিন ও কাতারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে লেবাননে যুদ্ধবিরতি আরও সুসংহত করা এবং একটি “ডি-কনফ্লিকশন সেল” (সংঘাত-নিরসন সমন্বয় সেল) গঠন নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে তার কার্যালয় জানিয়েছে। এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পর।

হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ, যা ২ মার্চ ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপের মাধ্যমে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে, আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টাকে বারবার হুমকির মুখে ফেলেছে। ওই হামলা চালানো হয়েছিল হিজবুল্লাহর সমর্থক ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে।

আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান নিয়ে সুইজারল্যান্ডে প্রথম দফার আলোচনার পর মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতার সোমবার জানায়, তেহরান ও ওয়াশিংটন লেবাননকে নিয়ে একটি “ডি-কনফ্লিকশন সেল” গঠনে সম্মত হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হবে সেখানে সামরিক অভিযান বন্ধের চুক্তি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

লেবাননের প্রেসিডেন্সির এক বিবৃতিতে বলা হয়, আউন একটি টেলিফোন কল পেয়েছেন জেডি ভ্যান্স, জারেড কুশনার এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানির কাছ থেকে।

তারা “লেবাননে যুদ্ধবিরতি জোরদার করা, ইসরায়েলি সামরিক উত্তেজনা বন্ধ করা এবং এ লক্ষ্যে গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপসমূহ, যার মধ্যে একটি বিশেষ সেল গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে,”—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সুইজারল্যান্ডের আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে লিখেছেন, প্রথম বাস্তব পরীক্ষা: লেবানন ডি-কনফ্লিকশন সেল।

এই আলোচনা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরান বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসানে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এতে “লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ” করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

গত সপ্তাহের শেষ দিকে ইসরায়েলি হামলা ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষ ওই সমঝোতাকে ভেস্তে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। তবে শনিবার সন্ধ্যা থেকে লেবাননে সংঘর্ষ বন্ধ রয়েছে। এর আগে ইরান জানায় যে, ইসরায়েলি হামলার জবাবে তারা আবারও কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার বলেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী “যতদিন প্রয়োজন ততদিন” অবস্থান করবে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম লেবাননের ভেতরে কোনো ইসরায়েলি “নিরাপত্তা অঞ্চল” গঠনের ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, লেবাননের ভেতরে যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসরায়েলি বাহিনীকে স্থায়ী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েল ঘোষণা করেছে, তাদের উত্তর সীমান্তবর্তী এলাকায় যুদ্ধসংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ সোমবার সকাল থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পঞ্চম দফা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

লেবানন সরকার দেশ থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি থেকে এ আলোচনাকে আলাদা রাখতে চায়, যাতে কয়েক দশকের বৈরিতার পর দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়টি পৃথকভাবে নির্ধারণ করা যায়।