ইতিবাচক আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও কথা বলতে চায় ইরান
ইরান শুক্রবার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও আলোচনা করার আশা করছে। ওমানে একদিনব্যাপী পরোক্ষ আলোচনায় “ইতিবাচক পরিবেশ” বিরাজ করলেও, ওয়াশিংটন নতুন সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ায় তেহরান হুমকির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় একটি বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর মোতায়েন থাকা অবস্থায়, মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদল ওমানের রাজধানী মাস্কাটে উপসাগরীয় এই সুলতানাতের মধ্যস্থতায় আলোচনা করে। তবে তারা প্রকাশ্যে মুখোমুখি বৈঠক করেনি।
এই আলোচনা ছিল জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর—দুই শত্রু দেশের মধ্যে প্রথম সংলাপ।
এছাড়া, ইরানি কর্তৃপক্ষ এক মাসেরও কম সময় আগে বিক্ষোভ দমনে অভিযান চালায়, যাতে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়—এমন প্রেক্ষাপটেও এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় বলে এএফপি জানিয়েছে।
মাস্কাটে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, আলোচনা “শুধুমাত্র” ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর ধারণা, এই কর্মসূচির লক্ষ্য পারমাণবিক বোমা তৈরি, যদিও তেহরান জোর দিয়ে বলছে এটি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
মার্কিন প্রতিনিধিদল—যার নেতৃত্বে ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনার—চেয়েছিল ইরানের পক্ষ থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতি আচরণকেও আলোচনার এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করতে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে আরাগচি বলেন, “খুবই ইতিবাচক পরিবেশে আমাদের যুক্তিগুলো বিনিময় হয়েছে এবং অপর পক্ষের মতামত আমাদের জানানো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষ “আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে, তবে এর পদ্ধতি ও সময়সূচি পরে নির্ধারণ করা হবে।”
আলোচনা শেষ হওয়ার পর তিনি যোগ করেন, “পরবর্তী পথ নির্ভর করবে বিভিন্ন রাজধানীর সঙ্গে আমাদের পরামর্শের ওপর।”
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটন যেন “হুমকি ও চাপ” থেকে বিরত থাকে, যাতে “আলোচনা অব্যাহত রাখা যায়।”
মাস্কাটে থাকা মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, এই আলোচনা যেন “দুই পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে এমন একটি ব্যাপক চুক্তির দিকে এগিয়ে যায় এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করে।”
