৬ বছর পর উত্তর কোরিয়ায় ফ্লাইট চালু এয়ার চায়নার
এয়ার চায়না ৬ বছর পর সোমবার আবার বেইজিং থেকে পিয়ংইয়ংয়ে সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে। উত্তর কোরিয়া ধীরে ধীরে নিজেদের আন্তর্জাতিকভাবে আবার উন্মুক্ত করতে শুরু করেছে, এটিকে তারই ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
মূলত ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় থেকে এই রুটটি বন্ধ ছিল। মহামারি ঠেকাতে তখন উত্তর কোরিয়া তাদের সীমান্ত প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন ট্রেন সার্ভিস চালুর পর ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বেইজিং ক্যাপিটাল এয়ারপোর্ট থেকে একটি ফ্লাইট সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে উড্ডয়ন করে পিয়ংইয়ংয়ের সুনান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকাল ১০টা ৩৭ মিনিটে অবতরণ করে। বোয়িংয়ের ৭৩৭-৭০০ মডেলের ওই বিমানে সর্বোচ্চ ১২৮ জন যাত্রী বহন সম্ভব।
তবে এখনও এই রুটে সাধারণ পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ উন্মুক্ত নয়—শুধু ব্যবসা, পড়াশোনা বা বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই যাতায়াত করতে পারছেন।
চীন দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে কাজ করে আসছে। দেশটির দুর্বল অর্থনীতির জন্য চীন কার্যত একটি “লাইফলাইন”।
চীনের রাষ্ট্রদূত ওয়াং ইয়াজুন এবং অন্যান্য কূটনীতিকরা পিয়ংইয়ং বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাগত জানান।
যাত্রীরা আশা প্রকাশ করছেন, ভবিষ্যতে পর্যটন আরও উন্মুক্ত হবে। এক ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী জানান, এই ফ্লাইট চালু হওয়ায় বেইজিং-পিয়ংইয়ং যাতায়াত অনেক সহজ হবে এবং দুই দেশের মধ্যে মানুষের যোগাযোগ বাড়বে।
এর আগে ২০২৩ সালে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার কোরইয়ো একই রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছিল। এছাড়া গত বছর দেশটি রাশিয়ার সঙ্গে ফ্লাইট ও ট্রেন সার্ভিসও চালু করে।
পর্যটনের ক্ষেত্রে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমা পর্যটকদের জন্য কবে পুরোপুরি উন্মুক্ত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মহামারির আগে ২০১৯ সালে প্রায় ৩,৫০,০০০ চীনা পর্যটক উত্তর কোরিয়া ভ্রমণ করেছিলেন, যা দেশটির জন্য একটি বড় আয়ের উৎস ছিল। তুলনায়, প্রতি বছর মাত্র প্রায় ৫,০০০ পশ্চিমা পর্যটক সেখানে যেতেন।
