হিজবুল্লাহকে সমর্থন অব্যাহত রাখলে ইরানে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, যদি তারা হিজবুল্লাহকে “ঝামেলা সৃষ্টি করা” থেকে বিরত না রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর হামলা চালাবে। একই সময়ে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়।

দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও তেহরানের মিত্র হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ চলার প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা শুরু হয়, যা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার প্রাথমিক শান্তি চুক্তিকে ভেস্তে দেওয়ার হুমকি সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “ইরানকে অবিলম্বে লেবাননে তাদের উচ্চ বেতনভোগী প্রক্সি বাহিনীকে ঝামেলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে হবে।”

তিনি আরও লেখেন, “যদি তারা তা না করে, তাহলে আমরা ইরানকে আবারও খুব কঠোরভাবে আঘাত করব, ঠিক যেমন গত সপ্তাহে করেছিলাম—তবে আরও কঠিনভাবে!!!”

পরে রোববার ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে তার দেশের বিরুদ্ধে হুমকি না দেওয়ার সতর্কবার্তা দেন এবং বলেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জবাব দিতে প্রস্তুত।”

ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় গালিবাফ বলেন, “তারা কি মনে করে না যে তাদের হুমকির যদি কোনো প্রভাব থাকত, তাহলে তারা আজকের এই অসহায় অবস্থায় পৌঁছাত না? আমরা আমেরিকার হুমকিকে গুরুত্ব দিই না।”

তিনি আরও বলেন, “তাদের বক্তব্য দেওয়ার সময় আরও সতর্ক হওয়া উচিত; আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের ভিন্নভাবে জবাব দিতে প্রস্তুত। তারা যা-ই বলুক না কেন, কাজ আমরা-ই করি।”

শনিবার পূর্ব ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়। তবে ওই সন্ধ্যায় সংঘর্ষে কিছুটা বিরতি আসে, যখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধের শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রোববার সুইজারল্যান্ডে আলোচনার শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, তিনি “গত কয়েক দিনে লেবাননে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি” দেখেছেন।

তিনি বলেন, “আমরা সবাই আঞ্চলিক শান্তির জন্য কাজ করছি।”

আরও বলেন, “লেবাননে আমরা যে অবস্থায় আছি তা নিয়ে আমি সত্যিই আশাবাদী। এখনও কিছু কাজ বাকি আছে, তবে আমরা সেটি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাব।”

ভ্যান্স দাবি করেন, ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লেবাননের সংঘাত বন্ধ করার জন্য অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি কাজ করেছে।