হরমুজে বেড়েছে জাহাজ চলাচল
মেরিটাইম ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার অন্তত ৩৬টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, যা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ সংখ্যা।
এই ৩৬টি যাত্রা প্রণালীটির স্বাভাবিক শান্তিকালীন দৈনিক চলাচলের (প্রায় ১২০টি জাহাজ) প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সোমবারের মোট জাহাজ চলাচলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ সামুদ্রিক ট্র্যাকারগুলো অনেক সময় পরে জাহাজ শনাক্ত করে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল—যার মধ্যে তেলবাহী ট্যাঙ্কার, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজ এবং সারজাতীয় শুকনো বাল্ক পণ্যবাহী জাহাজ অন্তর্ভুক্ত—গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধের অবসানে একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছানোর পর কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
১৪ জুনের ওই চুক্তির আগে, ১ মার্চ ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্রণালীটি বন্ধ করে দেওয়ার পর প্রতিদিন ১০টিরও কম পণ্যবাহী জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত।
১৫ জুন থেকে প্রতিদিন গড়ে ২১টি জাহাজ চলাচল করেছে এবং গত পাঁচ দিনে তা ২৭টিতেও পৌঁছেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার জানানো হয়, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনার সময় ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, “হরমুজ প্রণালী কখনোই যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হবে।”
আগামী দুই মাসের জন্য নির্ধারিত আলোচনায় ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পাবে কি না, সেটি অন্যতম প্রধান প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে।
শনিবার ইরান ঘোষণা করে যে লেবাননে ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেছে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা সাময়িকভাবে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছে, যাতে ইরান ২১ আগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহ করতে পারে।
