সুপারভাইজড সেল্ফ-ড্রাইভিং নিয়ে ইউরোপে বিপাকে টেসলা

একটি সুইডিশ পরিবহন কর্তৃপক্ষ ইউরোপজুড়ে টেসলার স্বয়ংক্রিয় (সুপারভাইজড) ড্রাইভিং সফটওয়্যার চালুর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সুপারিশ করেছে—যদি না মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টেসলা তার সফটওয়্যারকে আইনগত গতিসীমা অতিক্রম করার ক্ষমতা থেকে বিরত না করে।

একটি আগে প্রকাশ না হওয়া ৩০ এপ্রিলের চিঠিতে, যা তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সুইডিশ পরিবহন প্রশাসন জানিয়েছে যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাস্তায় টেসলার “Full Self-Driving (Supervised)” ফিচার অনুমোদন করা উচিত নয়—যতক্ষণ না এটি গতিসীমা অমান্য করার সক্ষমতা বন্ধ করা হয়।

এই চিঠিটি পাঠানো হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রযুক্তিগত কমিটি ফর মোটর ভেহিকলসকে, যারা ৩০ জুন আবার বৈঠকে বসবে এবং পরে ইউরোপজুড়ে প্রযুক্তিটি চালুর বিষয়ে ভোট দেবে।

ফিচার নিয়ে মূল বিতর্ক

টেসলার “FSD (Supervised)” প্রযুক্তি শহরের রাস্তা ও হাইওয়েতে মানব তত্ত্বাবধানে গাড়িকে নিজে চালানোর সক্ষমতা দেয়। ইউরোপজুড়ে অনুমোদন পেলে এটি কোম্পানির বিক্রিতে সহায়তা করবে, বিশেষ করে যেখানে চীনা ইভি নির্মাতাদের প্রতিযোগিতা বাড়ছে।

টেসলারর প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।

কোম্পানির ব্যবহার নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, চালকদের শুধু এই সিস্টেমের ওপর নির্ভর করা উচিত নয় এবং রাস্তা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপদ গতিতে চালাতে হবে।

এই সিস্টেমে “Speed Offset” নামে একটি ফিচার আছে, যা গাড়িকে নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে কিছুটা বেশি গতিতে চলার অনুমতি দেয়।

সুইডেনের আপত্তি

সুইডিশ পরিবহন প্রশাসন তাদের চিঠিতে বলেছে:

“আইনগত গতিসীমা নিয়মিতভাবে অতিক্রম করার মতো স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম অনুমোদন করা হলে তা আইনি কাঠামো এবং স্বয়ংক্রিয় গাড়ির নিরাপত্তা সুবিধা—দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।”

তারা আরও বলেছে, এই ফিচারটি বাদ দেওয়া উচিত। তা না হলে তারা ইউরোপীয় কমিটিকে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিতে সুপারিশ করছে।

ইউরোপীয় পর্যায়ে আলোচনা

সুইডিশ কর্তৃপক্ষ ও নেদারল্যান্ডসের নিয়ন্ত্রক সংস্থা RDW-এর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। RDW এপ্রিল মাসে টেসলার FSD অনুমোদন দিয়েছিল এবং ইউরোপজুড়ে চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সুইডিশ পক্ষ জানিয়েছে, তাদের অবস্থান এপ্রিলের চিঠির পরও পরিবর্তন হয়নি এবং তারা একই মতের সঙ্গে আছে।

একজন কর্মকর্তা বলেন, সুইডেনের প্রতিনিধি কেবল তখনই অনুমোদনের পক্ষে ভোট দেবেন যদি গতিসীমা অতিক্রম করার ফিচারটি সরানো হয়।

অন্যান্য দেশের অবস্থান

নর্ডিক দেশগুলোর মধ্যে ফিনল্যান্ড ও নরওয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া, ডেনমার্ক এবং বেলজিয়াম সম্প্রতি এই প্রযুক্তি অনুমোদন করেছে।

এস্তোনিয়ার একজন কর্মকর্তা বলেন, গতি-সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকলেও চালকই শেষ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকায় তারা অনুমোদন দিয়েছে। দেশটি এখনো ভোটের সিদ্ধান্ত নেয়নি।

ডেনমার্কের রোড অথরিটির এক মুখপাত্র বলেন, এফএসবি ব্যবহারের সময় গতিসীমা মানার সম্পূর্ণ দায়িত্ব চালকের ওপর থাকে।

ইইউ অনুমোদনের শর্ত

ইউরোপীয় ইউনিয়নে এই প্রযুক্তি চালুর জন্য প্রয়োজন, ২৭ দেশের মধ্যে অন্তত ১৫টির সমর্থন এবং মোট জনসংখ্যার অন্তত ৬৫% প্রতিনিধিত্বকারী দেশগুলোর অনুমোদন।

যদি প্রস্তাবটি বাতিল হয়, তবে নেদারল্যান্ডসের প্রাথমিক অনুমোদন ছয় মাস পর বাতিল হয়ে যাবে এবং অন্যান্য জাতীয় অনুমোদনও প্রত্যাহার করা হবে বলে ডেনমার্কের রোড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।