যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দী ২২ ইরানি নাবিককে ছাড়িয়ে আনল পাকিস্তান

পাকিস্তান সোমবার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা একটি জাহাজ থেকে ২২ জন ইরানি নাবিককে স্থানান্তরে সহায়তা করেছে। এই পদক্ষেপকে ‘আস্থাবর্ধক ব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে পাকিস্তান। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভঙ্গুর কূটনৈতিক অবস্থার মধ্যে এমন তথ্য দিলো পাকিস্তান।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তোউস্কা’ নামের কনটেইনার জাহাজে আটক থাকা নাবিকদের রোববার গভীর রাতে ইসলামাবাদে আনা হয় এবং তাদের ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল।

এই হস্তান্তরের আগে ওমান উপসাগরে উত্তেজনাপূর্ণ সামুদ্রিক মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে মার্কিন বাহিনী ইরানের পতাকাবাহী জাহাজটি আটক করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, জাহাজটিতে ‘চীনের একটি উপহার’ ছিল। তবে চীন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তারা ‘যেকোনো বিদ্বেষপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন ও জল্পনা-কল্পনার’ বিরোধী।

ইরান এই জাহাজ জব্দের ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ বলে নিন্দা করেছে এবং এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে আলোচনা আয়োজন করছে।

পাকিস্তান জানায়, উভয়পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই নাবিকদের স্থানান্তর সম্পন্ন হয়েছে—যা নিষেধাজ্ঞা, শিপিং রুট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেও বাস্তব সহযোগিতার একটি বিরল উদাহরণ।

জাহাজটি মেরামতের পর ফেরত দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসলামাবাদ জানিয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে তারা সংলাপ ও কূটনীতি চালিয়ে যাবে, কারণ হরমুজ প্রণালি এখনও অস্থির এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ যোগাযোগ রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে।