মার্কিন–ইরান আলোচনা ব্যর্থ হলে আচমকা হামলা চালাবে ইসরায়েল ‘চমকপ্রদ হামলা’র হুমকি

ওমানে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার পুনরারম্ভ নিয়ে যখন প্রত্যাশা বাড়ছে, তখন আলোচনাগুলো ব্যর্থ হলে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এবং নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়ানোর সম্ভাবনা বিবেচনায় বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জরুরি বৈঠকে বসান দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা।

বৈঠকের আগে নেতানিয়াহু নেসেটের (ইসরায়েলি সংসদ) পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক কমিটির একটি গোপন উপকমিটিকে ব্রিফ করেন। সেখানে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা চালাতে প্রস্তুত—যা তার ভাষায় তথাকথিত “বারো দিনের যুদ্ধের” চেয়েও বেশি কঠোর হতে পারে।

পরবর্তীতে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানায়, আলোচনাগুলোতে তেহরানের সঙ্গে কূটনীতির গতিপথ নিয়ে জেরুজালেমে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ প্রতিফলিত হয়েছে।

চ্যানেল ১২ নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্রের বরাতে জানায়, ইরানসংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “পূর্ণ সমন্বয়” রয়েছে।

একই সময়ে, দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানায়, ইসরায়েলের সেনাপ্রধান আইয়াল জামির মার্কিন কর্মকর্তাদের বলেছেন—তেহরান যদি “যুদ্ধের পথ বেছে নেয়”, তবে ইরানের ভেতরে লক্ষ্যবস্তুতে “হঠাৎ হামলা” চালাতে ইসরায়েল প্রস্তুত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামির স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ছাড় দেয়, তাহলে তা ইসরায়েলের জন্য একটি ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করার শামিল হবে—যেমনটি ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অন্যান্য লাল রেখার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

পত্রিকাটি জানায়, এই অবস্থানই ব্যাখ্যা করে কেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আসন্ন আলোচনার এজেন্ডায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছেন। রুবিও চলতি সপ্তাহের শুরুতেই পুনরায় বলেন, আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র—উভয় কর্মসূচিই অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।

তবে ইরান এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরানি সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি—দুটিই তেহরানের জন্য অলোচনাতীত ‘লাল রেখা’।

নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা তিনি এখনও জানেন না। তবে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন যে বর্তমান আলোচনার পর্বে ওয়াশিংটন আরও কঠোর অবস্থান নেবে।

চ্যানেল ১২ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলের সন্তুষ্টি এখন “গভীর কৌশলগত মাত্রা” পেয়েছে। তারা উল্লেখ করে, সম্প্রতি জামিরের ওয়াশিংটনে এক গোপন সফর হয়েছে, যাকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা তাৎপর্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন।

সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জাচি হানেগবি হার্জলিয়ায় এক নীতিনির্ধারণী সেমিনারে বক্তব্য দিয়ে এই প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ইরানের ওপর হামলার অনুমতি দিতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বাইডেন কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি কাজে লাগাতে চেয়ে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

পরবর্তীতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদেও নেতানিয়াহু একই ধরনের আবেদন জানান এবং “শূন্য ঘণ্টা” ঘনিয়ে আসার বিষয়ে সতর্ক করেন। তবে ট্রাম্প শুরুতে সামরিক পদক্ষেপে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং নিষেধাজ্ঞা ও হুঁশিয়ারির পথই বেছে নেন।

হানেগবি জানান, জুন মাসে ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার ফলাফল পর্যালোচনা করার পর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরানের দুটি বড় হামলা সফলভাবে প্রতিহত হওয়ার পর—যাতে কোনো মার্কিন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেনি—ট্রাম্পের অবস্থান বদলে যায়।

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতায় ট্রাম্প মুগ্ধ হন এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের অনুমোদন দেন, এমনকি চূড়ান্ত পর্যায়ে এতে যোগ দিতেও সম্মত হন।