জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কোনো কারণ দেখছেন না পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার বলেছেন, বর্তমানে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের কোনো কারণ দেখছেন না। এর আগে জেলেনস্কি একটি উন্মুক্ত চিঠি প্রকাশ করে যুদ্ধের অবসান নিয়ে মুখোমুখি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

জেলেনস্কির ওই চিঠি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কাছেও পাঠানো হয়। সেখানে তিনি দাবি করেন যে অধিকাংশ রুশ নাগরিক ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি সংকটে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং তারা শান্তি চায়।

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা পুতিনের রাজনৈতিক অবস্থানকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। জেলেনস্কির মতে, ইতিহাস দেখিয়েছে যে রাশিয়ার জনগণ যখন কোনো পরিস্থিতিতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন পরিবর্তন আসে।

একটি বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন বলেন, চিঠিটি তাঁর কাছে আন্তরিক আলোচনার প্রস্তাব বলে মনে হয়নি। ওই ফোরামে রাশিয়ার কিছু শীর্ষ ব্যবসায়ী যুদ্ধজনিত উচ্চ সুদের হার ও অর্থনৈতিক স্থবিরতা নিয়ে অভিযোগ করেন।

পুতিন বলেন, “এই চিঠিতে বেশ কিছু রূঢ় মন্তব্য রয়েছে। এটি কি মুখোমুখি বৈঠকের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা ছিল, নাকি এমন বৈঠক না হওয়ার ব্যবস্থা? আমার মনে হয় দ্বিতীয়টিই সত্য।”

জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পুতিন, যিনি জেলেনস্কির নাম উল্লেখ না করে শুধু “চিঠির লেখক” বলে উল্লেখ করেন, স্পষ্টভাবে বলেন- “আমি সাক্ষাতের কোনো অর্থ দেখি না। ইউক্রেনীয় পক্ষের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর অগ্রগতি থামানো। কিন্তু আমাদের এমন চুক্তি দরকার, যা ছয় মাস বা তিন মাসের জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদি হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশেষজ্ঞদের কাজ করতে দিন এবং কিছু সমাধান বের করতে দিন। এরপর আমরা দেখা করতে পারি।”

এদিকে, রাশিয়ার যুদ্ধপন্থী সামরিক ব্লগাররাও জেলেনস্কির চিঠিকে সমালোচনা করে বলেছেন, এটি যুদ্ধ শেষ করার আন্তরিক প্রচেষ্টা নয়; বরং রাশিয়ার ভেতরে অসন্তোষ উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি একটি জনসংযোগ কৌশল।