কেন যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি অংশীদারিত্বের জন্য একটি নতুন বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন

লরেন্স জে. হাস যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি সম্পর্ক নিয়ে যে সাম্প্রতিক মন্তব্য করেছেন, তা সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ গতিবিধি এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতা সম্পর্কে একটি মৌলিক ভুল বোঝাবুঝির ইঙ্গিত দেয়। হাস যেখানে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সৌদি আরব নিয়ে তার “আশা পুনর্বিবেচনা” করা উচিত, সেখানে বাস্তব পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়—পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন ওয়াশিংটনের আশার নয়, বরং রিয়াদকে বিচার করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সেকেলে বিশ্লেষণী কাঠামোর। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সৌদি আরব থেকে দূরে সরে যাওয়া বা প্রত্যাশা কমিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া মানে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় সামাজিক-রাজনৈতিক রূপান্তরকে উপেক্ষা করা।

যারা সমাজতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সৌদি আরবকে পর্যবেক্ষণ করছেন, তাদের কাছে ভিশন ২০৩০-এর অধীনে চলমান পরিবর্তনগুলো কেবল বাহ্যিক নয়; এগুলো সৌদি সামাজিক চুক্তির এক পূর্ণাঙ্গ রূপান্তরের প্রতিফলন। সৌদি আরবকে অবিশ্বস্ত অংশীদার বা স্থবির স্বৈরতন্ত্র হিসেবে চিত্রিত করার যে বয়ান প্রচলিত আছে, তা আধুনিকায়নের পক্ষে বিপুল অভ্যন্তরীণ সমর্থনের বিষয়টি উপেক্ষা করে। সৌদি নেতৃত্ব শুধু উপর থেকে চাপিয়ে দিয়ে পরিবর্তন আনছে না; বরং তারা এমন এক তরুণ জনগোষ্ঠীর দাবির প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, যারা বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত, বহুমুখী অর্থনীতি এবং তুলনামূলকভাবে উদার সামাজিক পরিবেশ চায়। সমালোচকেরা যখন যুক্তরাষ্ট্রকে এই অংশীদারিত্ব “পুনর্বিবেচনা” করার আহ্বান জানান, তখন তারা কার্যত এমন একটি স্থিতিশীল শক্তিকে পরিত্যাগের পক্ষে কথা বলেন, যা পশ্চিমা পর্যবেক্ষকেরা দশকের পর দশক ধরে যে সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে এসেছেন, সেগুলোই সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে।

সৌদি–ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ও আঞ্চলিক সংযুক্ততা নিয়ে যে সংশয় দেখা যায়, তা প্রায়ই “সৌদি ফার্স্ট” কূটনীতির মূল বিষয়টি ধরতে ব্যর্থ হয়। রিয়াদের পররাষ্ট্রনীতি ক্রমশ কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও জাতীয় স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর অর্থ যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া নয়; বরং সম্পর্ককে আরও পরিণত, দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে রূপান্তর করা। সৌদি আরব তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা চাহিদা ও ইসলামী বিশ্বে নেতৃত্বের ভূমিকাকে উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি কৌশলগত পছন্দের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একমত হবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ সৌদি আরবই একটি স্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যের পূর্বশর্ত, আর সেই স্থিতিশীলতা বর্তমানে অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ ও সামাজিক উদারীকরণের ভিত্তির ওপর গড়ে উঠছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পিছু হটা বা “আশা কমিয়ে আনার” যুক্তি এমন একটি শূন্যতার বিষয়টি উপেক্ষা করে, যা এতে সৃষ্টি হতে পারে। বৃহৎ শক্তির প্রতিযোগিতার এই যুগে যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি সম্পর্ক বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার একটি মূল স্তম্ভ হিসেবেই রয়ে গেছে। তবে এই অংশীদারিত্ব এখন এসব ঐতিহ্যবাহী ক্ষেত্রের অনেক বাইরে বিস্তৃত। উদীয়মান প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতায় দুই দেশের সহযোগিতা আমরা ইতোমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি। সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো নিয়ে একপেশে ও নৈরাশ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এসব অগ্রগতি উপেক্ষা করা মানে মূল চিত্রটি না দেখা।

যুক্তরাষ্ট্রের যে “আশা” সৌদি আরবের প্রতি থাকা উচিত, তা দেশটির অগ্রগতির বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করেই হওয়া দরকার—নারীর ক্ষমতায়ন, চরমপন্থী মতাদর্শ নিয়ন্ত্রণ, এবং দেশটিকে বৈশ্বিক পর্যটন ও বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার মতো অর্জনগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে। সমালোচকেরা প্রায়ই রাজনৈতিক পরিবর্তনের গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কিন্তু তারা এমন এক অঞ্চলে এত দ্রুত সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিচালনার জটিলতা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হন, যা নিজেই অস্থিরতায় পরিপূর্ণ।

বর্তমান সৌদি মডেলটি দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত হিসেবে উন্নয়ন ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয়। এটি একটি বাস্তববাদী পন্থা, যার লক্ষ্য হলো এমন বিশৃঙ্খল পরিণতি এড়ানো, যা আমরা অন্য কিছু আঞ্চলিক রাষ্ট্রে দেখেছি—যেখানে দৃঢ় অর্থনৈতিক বা সামাজিক ভিত্তি ছাড়াই দ্রুত পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল।

অতএব, আশা পুনর্বিবেচনার বদলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাদের সম্পৃক্ততার ধরন পুনর্বিবেচনা করা। সৌদি আরবকে নিজস্ব সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি উদীয়মান মধ্যম শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সুস্থতায় দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে যখন এই অংশীদারিত্বকে একটি কৌশলগত জোট হিসেবে দেখা হয়, তখনই তা সবচেয়ে কার্যকর হয়। ঐতিহাসিক পক্ষপাতের বদলে অগ্রগতির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সৌদি আরবকে দেখলে স্পষ্ট হয়—যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি সম্পর্ক অতীতের কোনো অবশিষ্টাংশ নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য এক অপরিহার্য প্রয়োজন। সৌদি আরবের রূপান্তর একটি স্থায়ী বাস্তবতা, এবং সেই যাত্রায় সক্রিয় অংশীদার হওয়াই ওয়াশিংটনের সর্বোত্তম স্বার্থে।

আল-আরাবিয়া থেকে অনূদিত