ইরানে হামলা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যতদিন চাইবেন, ততদিন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলবে এবং মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্রতা আরও বাড়বে—এমনটাই বলেছেন পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথ।

পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আজ ইরানের ভেতরে আমাদের হামলার আরেকটি সবচেয়ে তীব্র দিন হতে যাচ্ছে।” এই বক্তব্য তিনি দেন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর ১০ দিনেরও বেশি সময় পরে।

যুদ্ধ কতদিন চলবে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, ট্রাম্পই এর গতি নিয়ন্ত্রণ করছেন। “গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ট্রাম্পের হাতে। তিনিই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন,” বলেন হেগসেথ।

তিনি আরও বলেন, “এটি যুদ্ধের শুরু, মাঝামাঝি নাকি শেষ—তা বলা আমার কাজ নয়।”

এই সংঘাতের একটি লক্ষ্য হলো ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করা। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ড্যান কেইন জানান, ইরানের নৌবাহিনীকে লক্ষ্য করে কামান, যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান এবং সমুদ্র থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

কেইন জানান, অভিযানের প্রথম ১০ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ৫০টির বেশি নৌজাহাজও রয়েছে।

এদিকে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে সব ধরনের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। এর জবাবে ট্রাম্প সতর্ক করেছেন—তেহরান যদি তেল রপ্তানিতে বাধা দেয়, তবে তাদের ওপর “মৃত্যু, আগুন এবং ভয়াবহ প্রতিশোধ” নেমে আসবে।

কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এখনো “মাইন পাতা জাহাজ ও মাইন সংরক্ষণাগার খুঁজে বের করে হামলা চালাচ্ছে”—যে অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে ইরান সমুদ্রপথে চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইরান প্রতিরোধ করছে ঠিকই, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ধারণার চেয়ে বেশি শক্তিশালী নয়। “তারা লড়ছে এবং আমি সেটাকে সম্মান করি, কিন্তু আমার মনে হয় না তারা আমাদের ধারণার চেয়ে বেশি শক্তিশালী,” বলেন তিনি।

অন্যদিকে হেগসেথ অভিযোগ করেন, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকায়—স্কুল ও হাসপাতালের কাছে—রকেট লঞ্চার স্থাপন করছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র সহজে হামলা করতে না পারে। “এভাবেই তারা কাজ করে,” বলেন তিনি।

তবে সংঘাতের শুরুতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে হামলা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি। ইরানের দাবি, ওই হামলায় ১৫০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সোমবার তিনি ইঙ্গিত দেন, সম্ভবত ইরান নিজেই স্কুলটির দিকে একটি টমাহক মিসাইল নিক্ষেপ করেছিল। তবে বাস্তবে ইরানের কাছে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নেই—এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্ত্র, যা মার্কিন বাহিনী ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে।