ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যকারী দেশগুলোর ওপর শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যাতে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই আদেশে স্বাক্ষরের আগে তিনি আগামী সপ্তাহে তেহরানের সঙ্গে আরও এক দফা আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া এই আদেশে ইরানের সঙ্গে এখনো ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর নতুন করে “শুল্ক আরোপ” করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় একটি বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে মার্কিন নৌবহর মোতায়েন রয়েছে এবং শুক্রবার ওমানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে,“যে কোনো দেশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইরান থেকে পণ্য বা সেবা ক্রয়, আমদানি বা অন্য কোনো উপায়ে সংগ্রহ করলে, সেই দেশের উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা হলে তার ওপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।”
গত মাসে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যেকোনো দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
এই আদেশের মাধ্যমে তার প্রশাসনের জন্য ওইসব দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের একটি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুল্কের হার নির্ধারণ করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। যদিও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, এই হার “উদাহরণস্বরূপ” ২৫ শতাংশ হতে পারে—যে হারটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রথম উল্লেখ করেছিলেন জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে।
এই শুল্কের প্রভাব পড়তে পারে রাশিয়া, জার্মানি, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট বাণিজ্যের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি চীনের সঙ্গে। ২০২৪ সালে চীন থেকে ইরানের আমদানি ছিল ১৮ বিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি ছিল ১৪.৫ বিলিয়ন ডলার।
ওমানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার মাস্কাটে অনুষ্ঠিত আলোচনা ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম বৈঠক, যখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে যোগ দিয়ে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন,“ইরান নিয়ে আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে,” এবং যোগ করেন,“আমরা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই আবার বৈঠক করব।”
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর, যখন তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে ৪৪৪ দিন ধরে জিম্মি সংকট চলেছিল এবং বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক ভেঙে যায়।
এর পরের কয়েক দশকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ খুবই বিরল ছিল।
