ইউক্রেনের রেল ইঞ্জিন ও জ্বালানি স্টেশনগুলোতে রাশিয়ার হামলা

রাশিয়া বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে তিনটি রেল ইঞ্জিনে হামলা চালিয়েছে, যাতে একজন চালক নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটির দুটি পেট্রোল স্টেশনেও আঘাত হানা হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের অবকাঠামোর ওপর হামলা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই জ্বালানি ও পরিবহন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। এর উদ্দেশ্য হলো একে অপরের সেনাবাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করা এবং বর্তমানে পঞ্চম বছরে প্রবেশ করা যুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে কৌশলগত সুবিধা অর্জন করা।

একটি হামলা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলে একটি রেল ইঞ্জিনে আঘাত হানে। আরেকটি হামলা দক্ষিণের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে সংঘটিত হয় বলে রাষ্ট্রায়ত্ত রেল কোম্পানি ইউকরজালিজনিতসিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওলেকসান্দর পেরতসোভস্কি ফেসবুকে জানান।

পার্তসোভস্কি বলেন, “দুটি ক্রুকে সময়মতো সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং তাদের কেউ আহত হননি। কিন্তু জাপোরিঝঝিয়ায় তৃতীয় হামলাটি মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনে। চালক নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও, পেছনের কেবিনে থাকা সহকারী চালককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”

এই মাসের শুরুতে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পার্তসোভস্কি জানান, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রাশিয়া ১০০টিরও বেশি রেল ইঞ্জিনে হামলা চালিয়েছে। তিনি এ হামলার সংখ্যাকে “একেবারেই উন্মাদনাপূর্ণ” বৃদ্ধি বলে বর্ণনা করেন।

তিনি মস্কোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তারাইউকরজালিজনিতসিয়ার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা আরও জানান, রাশিয়া জাপোরিঝঝিয়া ও সুমি অঞ্চলের পেট্রোল স্টেশনগুলোতেও হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, এই মাসের শুরুতে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাশিয়ার অনেক অঞ্চলে এবং রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রাইমিয়ায় জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল।