‘উ. কোরিয়া পারমাণবিক রাষ্ট্রের অবস্থান সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করবে’

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বলেছেন, অনিশ্চিত ও জটিল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলার একমাত্র উপায় হলো দেশের পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থানকে কাজে লাগানো। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।

তিনি বলেন, “অকল্পনীয়, বিস্ময়কর ঘটনা ও পরিস্থিতি” ঘটছে “আধিপত্যবাদী শক্তির দস্যুসুলভ লোভের” কারণে, যা বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতকে আরও সহিংস করে তুলছে। কিম যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের রক্তপাত বাড়ানোর জন্য দায়ী করেন।

তিনি ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির একটি বৈঠকে বক্তব্য দেন, যা শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় বলে কেসিএনএ জানিয়েছে।

কিম অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের যৌথ প্রতিরক্ষা ও পারমাণবিক অবস্থান ক্রমাগত শক্তিশালী করে কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করছে—যার একমাত্র উদ্দেশ্য উত্তর কোরিয়াকে আক্রমণ করা।

কেসিএনএ-র বরাতে তিনি বলেন, “পারমাণবিক শক্তিকে ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত ও শক্তিশালী করা এবং একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের অবস্থানকে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা হলো সবচেয়ে সঠিক ও একমাত্র পথ, যাতে অনিশ্চিত ও জটিল আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়।”

তবে প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে সম্ভাব্য কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

কিম একই সঙ্গে প্রচলিত অস্ত্র শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন এবং ১০ হাজার টনের একটি কৌশলগত গাইডেড মিসাইল ক্রুজার নির্মাণ দ্রুততর করার কথা বলেন।

সিউলের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক ইয়াং মু-জিন বলেন, এই মন্তব্যগুলো প্রমাণ করে যে পিয়ংইয়ং এখনও নিরস্ত্রীকরণ আলোচনাকে প্রত্যাখ্যান করছে এবং নিজেদের পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অবস্থানকে আরও জোরদার করছে।

তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া আবারও স্পষ্ট করছে যে নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা আর আলোচ্য বিষয় নয়, এবং তারা বরং “সমান মর্যাদার পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র” হিসেবে আলোচনা করতে চায়—যেখানে অস্ত্র হ্রাস আলোচনা হতে পারে, কিন্তু অস্ত্র ধ্বংস নয়।

তিনি আরও বলেন, এমন আলোচনা হলে তা ন্যূনতম প্রতিরোধ ক্ষমতা মেনে নেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয় জড়িত থাকবে, যা ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

কিমের বক্তব্যে ইউএস-সাউথ কোরিয়া নিউক্লিয়ার কনসালটিভ গ্রুপ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক-চালিত সাবমেরিন তৈরির আকাঙ্ক্ষার উল্লেখকে পিয়ংইয়ং তাদের পারমাণবিক অস্ত্র বাড়ানোর যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

উত্তর কোরিয়া ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত একাধিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পারমাণবিক অস্ত্র ও তা বহনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন চালিয়ে গেছে। এই অবস্থান আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

দেশটি নিজেদের পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং বহু বছরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগে রাজি হয়নি।

দলীয় বৈঠকে কয়লা শিল্প আধুনিকীকরণ এবং খনি-নির্ভর সম্প্রদায় পুনর্গঠনের বিষয়ও গুরুত্ব পায়, যাকে কিম একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষক ইয়াং বলেন, “কয়লা এখনো উত্তর কোরিয়ার প্রধান জ্বালানি উৎস।” তিনি জানান, শিল্প উন্নয়নের পরিকল্পনা মূলত দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে।