মস্কোতে ড্রোন হামলা প্রতিহত, ইউক্রেনে নিহত অন্তত ৫

মস্কোর দিকে সোমবার ভোরে ধেয়ে আসা কয়েক ডজন ড্রোন ভূপাতিত করেছে রাশিয়া। এ হামলার কারণে রাজধানীর কয়েকটি বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয় বলে রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কয়েক দিন আগেই ইউক্রেন আবারও মস্কোর তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছিল।

অন্যদিকে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ ড্রোন হামলায় বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন মিশরীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে উত্তরাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলের একই পরিবারের তিন সদস্য রয়েছেন।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে জানান, মস্কোগামী প্রায় ৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব এলাকায় ড্রোনগুলো ভূপাতিত হয়েছে সেখানে জরুরি সেবা দল পাঠানো হয়েছে, তবে এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

মস্কোর প্রধান বিমানবন্দরগুলো—শেরেমেতিয়েভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দোমোদেদোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মস্কোর নিকটবর্তী ঝুকোভস্কি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছিল। পরে আবার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাতভর রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ৩০১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এ সংখ্যার মধ্যে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনীয় এলাকাগুলোও অন্তর্ভুক্ত।

সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো এমন সময় ঘটল, যখন গত সপ্তাহে ইউক্রেনের ড্রোন আবারও মস্কোর একমাত্র তেল শোধনাগারে আঘাত হানে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর এটি রাজধানীতে সবচেয়ে বড় বিমান হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে সোমবার ভোরের ড্রোন হামলায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর, তার ৩৬ বছর বয়সী বাবা এবং ৭৩ বছর বয়সী দাদি নিহত হন। কিশোরটির মা ও তার দুই ভাইবোন আহত হয়েছে বলে আঞ্চলিক প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইউক্রেনীয় শহর ঝাপোরিঝঝিয়ায় ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানিয়েছেন।

রোববার সন্ধ্যায় রাশিয়া ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা ওব্লাস্ত অঞ্চলে একটি ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে। এতে একজন নিহত এবং তিনজন আহত হন বলে গভর্নর ওলেহ কিপার জানান।

তিনি বলেন, কৃষি স্থাপনায় আঘাত হানার পর বেশ কয়েকটি যানবাহন ও জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাঙ্কে আগুন ধরে যায়।

এদিকে রাশিয়া-সংযুক্ত ক্রাইমিয়া অঞ্চলের বৃহত্তম শহর সেভাস্তোপোল সোমবার সব উন্মুক্ত জনসমাগমমূলক অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। শহরের গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জানান, সড়কবাতিও বন্ধ রাখা হবে।

রুশ পর্যটকদের জনপ্রিয় গন্তব্য ক্রিমিয়ায় জ্বালানি বিক্রি সীমিত করা হয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় সরবরাহপথ ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে কেবল জরুরি সেবা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য জ্বালানি সরবরাহ রাখা হয়েছে।

রুশ ড্রোন হামলায় তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

ইউক্রেনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, রুশ ড্রোন হামলায় পানামার পতাকাবাহী তুর্কি মালবাহী জাহাজ Victress ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেকসি কুলেবা জানান, জাহাজটির ৫৮ বছর বয়সী এক মিশরীয় রাঁধুনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া তুরস্ক ও ভারতের নাগরিকসহ আরও আটজন নাবিক লাইফবোটে করে জাহাজ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

এলএসইজি তথ্য অনুযায়ী জাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রানা দানিজসিলিকের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কুলেবা আরও জানান, পালাউ ও বেলিজের পতাকাবাহী আরও দুটি জাহাজও রাতের হামলার মুখে পড়ে। তবে সেগুলোর কেউ আহত হয়নি এবং জাহাজগুলো পরে যাত্রা অব্যাহত রাখে।

রাশিয়া বারবার ইউক্রেনের সামুদ্রিক রপ্তানি পথকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য ও যুদ্ধকালীন অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও জাহাজগুলোতে একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে।