ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রোববার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে “নতুন অধ্যায় শুরু করার” একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে উভয় পক্ষ গত সপ্তাহে ইরানে যুদ্ধ অবসানের জন্য যে অন্তর্বর্তী চুক্তিতে পৌঁছেছিল, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেছে।
ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডের লেক লুকের্নের কাছে একটি পাহাড়ি রিসোর্টে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আগারচির সঙ্গে আলোচনা করছেন। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও সরাসরি এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় আবদ্ধ রাখতে। পশ্চিমা উদ্বেগ হলো, এই কর্মসূচি সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে, যদিও ইরান তা অস্বীকার করে।
ভ্যান্স আরও চান, তেহরান যেন গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে পরিবাহিত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়ে যায়।
কিন্তু লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যকার থেমে থেমে চলা সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় তেহরানের কাছ থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড় আদায় করতে এবং হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে।
ভ্যান্স সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, “এখন আমাদের সামনে প্রশ্ন হলো—আমরা একসঙ্গে আরও কতটা অর্জন করতে পারি? আমরা কি একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারি?”
তিনি বলেন, “আমরা কি মধ্যপ্রাচ্যের সম্পর্কগুলোকে স্থায়ীভাবে বদলে দিতে পারি, নাকি পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে যাব? সেটি আমাদের পছন্দ নয়, কিন্তু তা অবশ্যই ঘটতে পারে।”
ইরান প্রথমে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে চায়
বৈঠকের আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ী দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে বলেন, রোববারের আলোচনায় ইরানের প্রধান মনোযোগ থাকবে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর চলমান যুদ্ধের ওপর।
গত সপ্তাহে অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এখন শীর্ষ মার্কিন ও ইরানি আলোচকরা ৬০ দিনের এক দৌড়ে নেমেছেন, যাতে প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো যায়। এসব বিষয়ের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর ব্যাপক।
তবে চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক দিনের মধ্যেই এটি চাপে পড়েছে। কারণ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ বেড়েছে এবং পরে ইরানের সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে যে তারা আবারও সেই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করেছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের বাণিজ্যিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
শনিবার মধ্যস্থতায় হওয়া নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। ভ্যান্স জোর দিয়ে বলেন যে লেবানন প্রসঙ্গে “বড় অগ্রগতি” হয়েছে।
