চলতি সপ্তাহান্তেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি হতে পারে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান খুব শিগগিরই, সম্ভবত এই সপ্তাহান্তেই, একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে, যার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবারও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে।

চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে, তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে এটি হবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য। এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে একটি চমৎকার সমঝোতায় পৌঁছেছি।”

তিনি আরও বলেন, “চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রণালীটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। এটি খুব শিগগিরই হতে পারে, হয়তো সপ্তাহান্তে ইউরোপে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন।”

যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি চুক্তিটি অনুমোদন করেছেন কি না, ট্রাম্প বলেন, “আমার জানা মতে, উত্তর হলো হ্যাঁ।”

ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন এবং এর কারণ হিসেবে আলোচনায় অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেছেন।

মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি। এ সপ্তাহজুড়ে দুই পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা এপ্রিল মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে চাপের মুখে ফেলেছে।

ট্রাম্প বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সমঝোতা স্মারক, যদিও এটি কিছুটা ধারণাভিত্তিক।”

তিনি বারবার বলেছেন যে যেকোনো শান্তিচুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হবে—ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।

অন্যদিকে, ইরানের দাবির মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি।

ট্রাম্প বলেন, “আমাদের এমন একটি চুক্তি হয়েছে যাতে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। এটিই ছিল পুরো প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। তাই এটি অত্যন্ত বড় একটি অর্জন।”

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে তেহরান সম্ভবত এই চুক্তি অনুমোদন করবে, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।