হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঠেকিয়ে দিল ইরান!

ইরান বলেছে, দেশটি সোমবার হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করতে আসা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। তবে অ্যাক্সিওস একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, জাহাজটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি।

ইরানের নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘দ্রুত ও দৃঢ় সতর্কবার্তা’ দিয়ে ‘আমেরিকান-জায়নিস্ট’ যুদ্ধজাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি এলাকায় প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, প্রণালির দক্ষিণ প্রবেশমুখে জাস্ক বন্দরের কাছে ওই যুদ্ধজাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যেখানে ইরানের নৌঘাঁটি রয়েছে। তবে এক সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন। অবশ্য রয়টার্স স্বাধীনভাবে এই তথ্য যাচাই করতে পারেনি।

সোমবার ইরান মার্কিন বাহিনীকে সতর্ক করে দেয় যে তারা যেন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে প্রবেশ না করে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে ‘নির্দেশনা দিয়ে বের করে আনবে’, যা ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে সেখানে আটকে আছে।

ট্রাম্প এই পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি, তবে বলেন যে জাহাজ ও তাদের নাবিকরা দুই মাসের বেশি সময় ধরে সেখানে আটকে রয়েছে এবং খাদ্যসহ অন্যান্য সরবরাহ ফুরিয়ে আসছে।

রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আমরা এসব দেশকে বলেছি, আমরা তাদের জাহাজগুলোকে এই সীমাবদ্ধ জলপথ থেকে নিরাপদে বের করে দেব, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে।

এর জবাবে ইরানের ইউনিফায়েড কমান্ড বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে নির্দেশ দেয় যে তারা যেন ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো চলাচল না করে।

ইউনিফায়েড কমান্ডের প্রধান আলি আবদোল্লাহি এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা বারবার বলেছি, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা আমাদের হাতে এবং জাহাজের নিরাপদ চলাচল সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হতে হবে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যেকোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী, যদি প্রণালীতে প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপর আক্রমণ করা হবে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান নিজস্ব জাহাজ ছাড়া প্রায় সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হয়েছে এবং তেলের দাম ৫০ শতাংশ বা তার বেশি বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছে, তারা উদ্ধার অভিযানে ১৫ হাজার সেনা, ১০০টির বেশি স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং ড্রোন মোতায়েন করবে।

সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, এই প্রতিরক্ষামূলক মিশনে আমাদের সহায়তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, একই সঙ্গে আমরা নৌ অবরোধ বজায় রাখছি।