ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাল লেবানন
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে বৈঠকের সময় যুদ্ধ বন্ধে যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা শুরুর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ার মধ্য দিয়ে লেবানন আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার পর এমন প্রতিক্রিয়া দেখায় হিজবুল্লাহ।
এর জবাবে ইসরায়েল বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান চালায়, যার ফলে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আউন ‘যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মাধ্যমে এর সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দেওয়ার’ ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘তিনি যে আলোচনার উদ্যোগ ঘোষণা করেছিলেন তা এখনও টেবিলে রয়েছে, কিন্তু চলমান সামরিক উত্তেজনা এর বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আউন জোর দিয়ে বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বন্ধ করা।’
গত ৯ মার্চ আউন চার দফা একটি প্রস্তাব দেন, যার মধ্যে ছিল ইসরায়েলের সঙ্গে ‘সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা’, সেনাবাহিনীকে লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে ‘হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং তাদের গুদাম ও মজুদ ভেঙে ফেলা’, এবং লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে সরাসরি আলোচনা শুরু করা।
বারো বর্তমানে লেবাননে সংক্ষিপ্ত সফরে রয়েছেন, যা ‘ফরাসি জনগণের সমর্থন ও সংহতির প্রতিফলন, যারা এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে যা তারা নিজেরা বেছে নেয়নি,’ বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আউনের পাশাপাশি বারো লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এবং পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
তিনি বৈরুতের কাছে একটি স্কুলও পরিদর্শন করেন, যা যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বারো তিন নেতার সঙ্গে ‘লেবাননের পরিস্থিতি এবং উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে’ আলোচনা করবেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গত শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্ট স্পিকারের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরের দিন ইসরায়েলকে লেবানন সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় সম্মত হওয়ার আহ্বান জানান।
ম্যাক্রোঁ জানান, এই আলোচনা সহজতর করতে প্যারিসে আয়োজন করতে ফ্রান্স প্রস্তুত।
পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বারো শুক্রবার ইসরায়েল সফর করবেন—এটি ২০২৪ সালের পর তার প্রথম সফর এবং গত বছর ফ্রান্স ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর প্রথম সফর।
মন্ত্রণালয়ের মতে, বারো “ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মানবিক বিষয় এবং উত্তেজনা কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন।”
