মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জাপানের তাকাইচিকে সমর্থন ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে তার দেশে রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সমর্থন জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, তাকাইচি “ইতোমধ্যেই নিজেকে একজন শক্তিশালী, ক্ষমতাবান ও প্রজ্ঞাবান নেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন… যিনি সত্যিই নিজের দেশকে ভালোবাসেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “তিনি জাপানের জনগণকে হতাশ করবেন না!”
মার্কিন প্রেসিডেন্টদের পক্ষে বিদেশি নির্বাচনে প্রকাশ্যে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন জানানো বিরল হলেও, ট্রাম্প আগেও এমন করেছেন। সর্বশেষ তিনি আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মিলেই এবং হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানকে সমর্থন দিয়েছেন।
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে—যা তাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র—সম্পর্কে আরও স্থিতিশীলতা আনতে টোকিও যখন চেষ্টা করছে, তখন তাকাইচি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠতা অর্জনের চেষ্টা করেছেন।
ট্রাম্প শুরুতে ২৫% শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন, তবে পরে জুলাই মাসে জাপান যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫০ বিলিয়ন ডলার (৪০৭ বিলিয়ন পাউন্ড) বিনিয়োগ করতে সম্মত হলে একটি চুক্তি হয়। এর বিনিময়ে ওয়াশিংটন আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১৫%-এ নামিয়ে আনে।
নিজ দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে জয়ী হয়ে এবং পার্লামেন্টে পর্যাপ্ত সমর্থন নিশ্চিত করার পর তাকাইচি অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী হন। তবে তিনি জনগণের সরাসরি সমর্থন (জনম্যান্ডেট) পেতে একটি নির্বাচন আহ্বান করেন।
দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পরই টোকিও ট্রাম্পকে জাঁকজমকপূর্ণভাবে স্বাগত জানায়। আকাসাকা প্যালেসে—সরকারের রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায়—তাঁকে স্বাগত জানাতে পূর্ণ সামরিক গার্ড অব অনার ও একটি ব্যান্ড মোতায়েন করা হয়।
দুই নেতা একে অপরের প্রশংসায় মুখর হন এবং বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) নিয়ে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র–জাপান সম্পর্কের একটি নতুন “স্বর্ণযুগ”-এর সূচনা ঘোষণা করে এমন একটি নথিতেও সই করেন।
সফরকালে তাকাইচি ট্রাম্পকে “নতুন স্বর্ণযুগের একজন অংশীদার” হিসেবে আখ্যা দেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
