হরমুজে মাইনের কারণে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত

ট্যাঙ্কার মালিকদের স্বাধীন বাণিজ্যিক সংগঠন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির মাঝখানে প্রায় ৮০টি মাইন (নৌ-মাইন) পাতা রয়েছে, যা অপসারণ না করা পর্যন্ত স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি জাহাজ উপসাগর এলাকা থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথ দিয়ে বের হতে শুরু করে। তবে, যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হলেও জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে না। কারণ মাইন এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা এখনো রয়ে গেছে। এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের সামনে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোকেও স্পষ্ট করে তুলছে বলে শনিবার প্রতিবেদন করেছে দ্য গার্ডিয়ান।

ট্যাঙ্কার মালিকদের সংগঠন ইন্টারট্যাঙ্কোর মেরিন ডিরেক্টর ফিল বেলচার বলেন, “মূল রুটটি… যা হরমুজ প্রণালীর মাঝখান দিয়ে গেছে, সেটি বন্ধ রয়েছে, সেটি বিপজ্জনক।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে ৮০টি মাইন রয়েছে। এটি একটি বিশাল সংখ্যা এবং এগুলো অপসারণ করতে কিছুটা সময় লাগবে।”

সংঘাত চলাকালে তেহরান প্রণালীর মাঝখানে ট্রাফিক সেপারেশন স্কিমের মধ্যে মাইন পেতে রাখে। ইরান ও ওমানের মধ্যে ১৯৬৮ সাল থেকে এই নৌ-চলাচল ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল ট্যাঙ্কার ও অন্যান্য জাহাজের চলাচল সীমিত করা।

প্রণালীর উভয় পাশে প্রায় ২০,০০০ নাবিক আটকা পড়ে ছিলেন। তবে কিছু জাহাজ রাতের অন্ধকারে ওমান উপকূলের কাছাকাছি দিয়ে তাদের ট্রান্সমিটার বন্ধ রেখে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় গোপনে পার হয়ে যেতে সক্ষম হয়।

অন্য কিছু জাহাজ অর্থের বিনিময়ে ইরানের জলসীমা ব্যবহার করে চলাচল করেছে। এই ব্যবস্থাকে অনেকে “তেহরানের টোলবুথ” নামে অভিহিত করেছেন।

নৌপরিবহন শিল্প চায় যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক রুটে ফিরে যেতে। সংঘাতের আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করত এবং বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যেত।

বেলচার বলেন, “এটি এমন একটি মহাসড়কের মতো, যেখানে মাঝের রাস্তা বন্ধ এবং আপনি এখন রাস্তার পাশের জরুরি লেন ব্যবহার করছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের মহাসড়কটি খুলে দিতে হবে যাতে নিরাপদে বিপুল পরিমাণ যান চলাচল সম্ভব হয়। বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো নৌ-চলাচল ঝুঁকি—বিশেষ করে পাথরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি। দক্ষিণ দিকের রুট, অর্থাৎ ওমান রুটটি পাথরের খুব কাছ দিয়ে গেছে।”

প্রণালীর সংকীর্ণ অংশ দিয়ে বিপুল সংখ্যক জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করায় নৌপরিবহন শিল্প সংঘর্ষের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করছে।

এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে তথাকথিত “সিগন্যাল জ্যামিং”-এর কারণে, যা সংঘাত চলাকালে ইরান করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপের ফলে জাহাজের নেভিগেশন ও অবস্থান নির্ধারণ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং কার্যত জাহাজগুলো “অন্ধ অবস্থায়” চলাচল করতে বাধ্য হয়।

কোনো জাহাজের সংঘর্ষ, আটকে পড়া বা ডুবে যাওয়া বৈশ্বিক বাণিজ্যে আরও বড় বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।

ধারণা করা হচ্ছে, এখনো প্রায় ৬০০টি জাহাজ উপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এগুলো নোঙর করে রয়েছে, ফলে জমে থাকা জট কাটাতে সময় লাগবে।