যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে অনুমোদন মোজতবা খামেনির

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তি সম্পর্কে তার “ভিন্ন মত” থাকলেও তিনি সেটিকে অনুমোদন দিয়েছেন। তবে তিনি তার আপত্তির বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় তিনি বলেন, নীতিগতভাবে এই সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে আমার ভিন্ন মত ছিল। কিন্তু সম্মানিত (ইরানি) প্রেসিডেন্ট, যিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান, তিনি নিজে এবং পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের পক্ষ থেকে আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—ইরানি জাতি ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের অধিকার রক্ষার বিষয়ে—তার ভিত্তিতে আমি অনুমতি দিয়েছি।

প্রথমবার প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া

খামেনি মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনসমক্ষে দেখা দেননি। তিনি ক্ষমতায় আসেন তার পিতা ও পূর্বসূরি আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় আলি খামেনি নিহত হন, যা পরবর্তীতে আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা ঘটায়।

বৃহস্পতিবারের এই বার্তাই ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি সম্পর্কে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।

চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

ট্রাম্পের সমালোচনা

খামেনি তার বার্তায় বলেন, ট্রাম্প হতাশা থেকে এই চুক্তি অর্জনের জন্য সব ধরনের চাপ ও উপায় ব্যবহার করেছেন।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি অর্জনে অত্যন্ত আগ্রহী ছিল এবং সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায় প্রয়োগ করেছে।

‘অতিরিক্ত দাবি’ মানা হবে না

খামেনি আরও জানান যে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাকে আশ্বস্ত করেছেন—যদি যুক্তরাষ্ট্র “অতিরিক্ত দাবি” তোলে, তাহলে সেই চুক্তি গ্রহণ করা হবে না।

তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে নিশ্চয়তা পেয়েছি যে, যদি আমেরিকান পক্ষ অতিরিক্ত দাবি উত্থাপন করে, তাহলে তা গ্রহণ করা হবে না।

ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সরাসরি আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মুখোমুখি যে আলোচনা হবে, তার অর্থ এই নয় যে আমরা শত্রুপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নিচ্ছি।