চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে অভিযান চালিয়ে যাবে ইসরায়েল
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে যে তারা দক্ষিণ লেবাননে তাদের অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং তথাকথিত “নিরাপত্তা অঞ্চল”- এর বাইরেও যেকোনো “হুমকি” অপসারণ করবে।
এই ঘোষণা আসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পর, যেখানে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে তাদের ঘোষিত “নিরাপত্তা অঞ্চল” দেখানো হয়েছে। এই অঞ্চলটি লেবাননের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত।
সেনাবাহিনী জানায়, “হুমকি দূর করা এবং ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য আমাদের সেনারা সেখানে মোতায়েন থাকবে।”
পরে এক সামরিক কর্মকর্তা আরও বলেন, নিরাপত্তা অঞ্চলের বাইরেও যদি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) সদস্য বা ইসরায়েলের নাগরিকদের জন্য কোনো হুমকি শনাক্ত হয়, তাহলে তা অপসারণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
চুক্তির পরও প্রাণহানি
বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করার কথা উল্লেখ ছিল। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দক্ষিণ লেবাননে একটি ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, আগের রাতে দক্ষিণ লেবাননে একটি ঘটনার সময় তাদের একজন সেনা নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছে।
লেবাননের সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান
ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা লেবাননের সেনাবাহিনীকে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান।
এছাড়া তিনি লেবাননের সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা অঞ্চলে প্রবেশ না করার অনুরোধ করেন।
সহিংসতা কমেছে
সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে লেবাননে সহিংসতার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
হিজবুল্লাহ মার্চ মাসে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়ে লেবাননকে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জড়িয়ে ফেলে। তাদের দাবি ছিল, মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া।
এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় এবং দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করে। এই অঞ্চলটি ইসরায়েলের সীমান্তসংলগ্ন এবং দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহর প্রভাবাধীন।
সরাসরি আলোচনা চলছে
এপ্রিল মাস থেকে লেবানন ও ইসরায়েল ওয়াশিংটনে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্য হলো ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং তাদের বিরোধকে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ থেকে আলাদা রাখা।
ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপগুলো এখনও ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার কাঠামোর মধ্যেই আলোচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা আগামী সপ্তাহে আবার বৈঠকে বসবেন।
