চীনা হামলার আশঙ্কায় তাইওয়ানের সামরিক মহড়া শুরু

তাইওয়ান সোমবার থেকে পাঁচ দিনের সামরিক মহড়া শুরু করেছে। সম্ভাব্য চীনা সামরিক হামলার ক্ষেত্রে দ্বীপটির যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।

তাইওয়ানের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আবাসস্থল তাওইউয়ান শহরে ট্যাংকগুলোকে শহরের সড়ক ও মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। মহড়ার ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর ২৬৯তম পদাতিক ব্রিগেডের সাঁজোয়া যানগুলো সকালে যুদ্ধ প্রস্তুতি টহল পরিচালনা করছে।

এই ইমিডিয়েট কমব্যাট রেডিনেস এক্সারসাইজের উদ্দেশ্য হলো সামরিক ইউনিটগুলো কত দ্রুত মোতায়েন হতে পারে তা পরীক্ষা করা, বিশেষ করে চীনের সম্ভাব্য আকস্মিক “গ্রে-জোন” যুদ্ধকৌশল আরও তীব্র হলে।

“গ্রে-জোন” কৌশল বলতে এমন বিভিন্ন আক্রমণাত্মক পদক্ষেপকে বোঝায়, যা সরাসরি যুদ্ধ নয়, তবে চাপ সৃষ্টি করে। এর মধ্যে নৌবাহিনীর টহল, ড্রোন উড্ডয়ন এবং অন্যান্য সামরিক তৎপরতা অন্তর্ভুক্ত।

রোববার বিকেলে ঘোষিত এই মহড়া যতটা সম্ভব বাস্তবসম্মতভাবে পরিচালনা করা হবে বলে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, মহড়ায় “রিয়েল-টাইম, লাইভ-ফায়ার এবং সরাসরি মাঠপর্যায়ের” অনুশীলনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তাইওয়ানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শত্রুপক্ষ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আগে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, এই মহড়ায় মূলত তারই অনুকরণ করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে আকস্মিক বা তাৎক্ষণিক মহড়াও অনুষ্ঠিত হতে পারে, যার মধ্যে চীনের সামরিক মহড়ার সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানানোর অনুশীলনও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোববার থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি তাইওয়ানের দিকে ২৩টি সামরিক বিমান পাঠিয়েছে। এর সঙ্গে ছিল সাতটি যুদ্ধজাহাজ এবং আরও পাঁচটি চীনা সরকারি জাহাজ।

চীন প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নৌযান তাইওয়ানের আশপাশে পাঠিয়ে থাকে।

চীনের ক্রমাগত সামরিক চাপের মুখে তাইওয়ান নিয়মিত যুদ্ধ প্রস্তুতি মহড়া পরিচালনা করে আসছে। চীন স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং এটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেনি।

এর আগে জুন মাসের শুরুতে সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে তাইওয়ান প্রথমবারের মতো চীনের দিক লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ করেছিল।