এই তিন ভুলে বাবা-মায়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতে পারে সন্তানের

প্রতিটি সম্পর্কই সুন্দর। কিন্তু বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। সবচেয়ে মিষ্টি আর পবিত্র হলেও এই সম্পর্কেও নেমে আসতে পারে অন্ধকার। বিশেষ করে সন্তান যখন বয়ঃসন্ধিকালে পা দেয়, তখন সন্তান ও বাবা-মায়ের মধ্যে ছোট-বড় কারণে দূরত্ব তৈরি হয়। এসময় সন্তানের শারীরিক, মানসিক ও আচরণগত নানা পরিবর্তন আসে। তাই এসময় বাবা-মাকে একটু বেশি সংযত ও সংবেদনশীল হতে হয়। না হলে সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের মতবিরোধ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, একে অন্যের সঙ্গে কথা বলাও বন্ধ হয়ে যায়। তাই বাবা-মা হিসেবে কিছু ভুল আছে, যেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। মোটাদাগে এই ৩ ভুল করলে সন্তানের সঙ্গে তৈরি হতে পারে দূরত্ব।

সন্তানের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া

ছোট বলেই যে সন্তান ভুল, এমনটা ভাবা যাবে না। সেও পরিবারের সদস্য। তাই সে যদি কোনো বিষয়ে মতামত দেয়, তাহলে সেটাকে হেলায় উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। এতে সে দুঃখ পাবে। তখন একদিন নিজের মতামত দেওয়া বন্ধ করে দেবে। পাশাপাশি সে নিজের মনের কথা বলতে ভয় পাবে, যা ভবিষ্যতে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সবার সামনে ছোট করা

অনেক বাবা-মা আছেন, যারা অজান্তেই সন্তানকে ছোট-বড় কথা বলে বসেন। বিশেষ করে সবার সামনে এমন কিছু কথা বলে ফেলেন, যা সন্তানের কাছে অপমানজনক। এক্ষেত্রে আপনি হয়ত নিজের ভুল বুঝতে পারছেন না, কিন্তু সন্তান এতে দুঃখ পায়। পাশাপাশি অন্য কারও সঙ্গে বার বার নিজের সন্তানের তুলনা, তাকে আরও আপনার থেকে দূরে করে দেয়। তাছাড়া এই ধরনের অপমানজনক কথাবার্তা বার বার শুনতে শুনতে সন্তানের আত্মবিশ্বাসও কমে যায়। তারা হীনমন্যতায় ভুগতে থাকে। তাই সন্তানকে অন্যের সামনে অপমান আগে নিজেকে সংযত রাখুন।

স্বাধীনতায় বার বার হস্তক্ষেপ করা

বয়সে অপরিপক্ক হলেও ছেলেমেয়েকে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে দিন। তার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বার বার প্রশ্ন তোলা থেকেও বিরত থাকুন। বরং তাকে কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ সেটা বোঝান। ভুল পথে হাঁটলে কী বিপদ আসতে পারে, তাও বোঝান। তবে সন্তানের স্বাধীনতায় ক্রমাগত বাধা দেবেন না। পাশাপাশি সবার মতো সন্তানেরও ব্যক্তিগত পরিসর রয়েছে। তাই তাকেও সেই স্পেসটা দিন। সন্তানকে পরাধীন না করে বরং স্বাবলম্বী করে তুলুন। যাতে ভবিষ্যতে চলার পথে যে কোনো সমস্যায় পড়লে সে নিজেই যেন সেখান থেকে বের হতে পারে।