ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আরও ঝুঁকে পড়ল কাতার
ইরানের বিমান হামলার পর কাতার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে চায় বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান চুক্তিগুলোও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতারা নিহত হওয়ার পর ইরান তার উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই সংঘাতের কারণে অঞ্চলের জ্বালানি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং তেলের দাম বেড়ে গেছে।
কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা অংশীদারত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে কাতারের প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো আরও শক্তিশালী করা দরকার।
তিনি বলেন, “এই অংশীদারত্বগুলোই আমাদের দেশের ওপর যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে প্রধান প্রতিরোধ ও সুরক্ষা।”
তিনি আরও বলেন, “যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন প্রতিরোধ ব্যবস্থা কাজ নাও করতে পারে… কিন্তু তার মানে এই নয় যে প্রতিরোধ থাকা উচিত নয়। বরং এগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে—এটাই আমরা এখন করার চেষ্টা করছি।”
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গত অক্টোবরে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কাতারের ওপর কোনো সশস্ত্র হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তার ওপর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে তারা অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত করবে।
কাতার আরও সতর্ক করেছে যে যুদ্ধের সময় আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে তার অর্থনৈতিক প্রভাব সারা বিশ্বেই পড়বে।
আল-আনসারি বলেন, “জ্বালানি স্থাপনায় যে হামলাগুলো হয়েছে—উভয়পক্ষ থেকেই—তা একটি বিপজ্জনক নজির। এর প্রভাব সারা বিশ্বে পড়বে।”
তিনি আরও জানান, এক সপ্তাহ আগে ইরানের ড্রোন হামলার কারণে কাতারের গ্যাস উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও ইরান দেশটির অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে… এবং এসব হামলার জন্য ইরান যে যুক্তি দিচ্ছে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি।”
