ইরানকে থামাতে ৪ দেশের তোড়জোড় শুরু

পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশর রোববার ইসলামাবাদে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দ্রুত ও স্থায়ীভাবে শেষ করার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে এই চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পাকিস্তানের রাজধানীতে বৈঠক করেন, যেখানে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

দার এক বিবৃতিতে বলেন, অংশগ্রহণকারী সবাই এই উদ্যোগে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ইসলামাবাদে আয়োজনের উদ্যোগকে চীন “পূর্ণ সমর্থন” দিচ্ছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দারের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে।

মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আব্দেলাত্তে এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান শনিবার ইসলামাবাদে পৌঁছান। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান রোববার সেখানে যোগ দেন। দার তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদাভাবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন।

চলমান সংঘাতে পাকিস্তান এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে। ইসলামাবাদের ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে, পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শনিবার জানান, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফোনে কথা বলেছেন, যেখানে তিনি পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। পেজেশকিয়ান সংঘাত বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রশংসা করেন।

যদিও তেহরান প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে, তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমের একটি সূত্র জানায়, তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ দফা প্রস্তাবের জবাব মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠিয়েছে।

এদিকে দার আরও বলেন, ইরান অতিরিক্ত ২০টি পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, যা তিনি আস্থা বৃদ্ধির একটি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি এক্স-এ লিখেছেন, “সংলাপ, কূটনীতি এবং এ ধরনের আস্থা-নির্মাণমূলক পদক্ষেপই এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ।”