শসা তেতো কিনা বোঝার সহজ উপায়
গরমকালে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে অন্যতম শসা। সালাদ, রায়তা কিংবা কাঁচা— নানাভাবেই খাওয়া যায় এটি। শসায় পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় এটি শরীরকে রাখে ঠান্ডা। হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি হজমশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। তবে অনেক সময় শসার স্বাদ বিদঘুটে তেতো হলে খাওয়ার রুচিই যেন নষ্ট হয়ে যায়। তাই কেনার আগেই কিছু সহজ উপায়ে জেনে নেওয়া জরুরি, যাতে সহজেই বুঝতে পারেন শসা তেতো কিনা?
রং দেখে বিচার করুন
ভালো ও টাটকা শসার রং সাধারণত হালকা সবুজ এবং উজ্জ্বল হয়। কিন্তু শসার গায়ে অতিরিক্ত হলুদ বা সাদা ভাব থাকলে তবে সেটি পুরোনো হতে পারে এবং তেতো হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।
খোসা ও দাগ পরীক্ষা করুন
উন্নতমানের শসার খোসা মসৃণ হয়। তার উপর গাঢ় সবুজ রঙের স্পষ্ট লম্বা দাগ দেখা যায়। খোসা যদি শক্ত, দাগযুক্ত বা অসমান হয়, তাহলে শসার স্বাদ তেতো হতে পারে।
হালকা চাপ দিয়ে দেখুন
শসা কেনার সময় হাতে নিয়ে হালকা চাপুন। সামান্য নরম অনুভূত হলে সেটি সাধারণত টাটকা বলে ধরা হয়। তবে খুব বেশি শক্ত বা অতিরিক্ত নরম শসা এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ এগুলো বেশি পাকা বা নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।
আকার ও গঠনের দিকে নজর দিন
অত্যন্ত বড় বা খুব ছোট শসার ভিতরে বেশি বীজ থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো তেতোও হয়। মাঝারি আকারের, সোজা ও তুলনামূলক পাতলা শসা বেছে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
বোঁটা পরীক্ষা করুন
শসার বোঁটা যদি সবুজ ও সতেজ দেখায়, তবে সেটি নতুন তোলা শসা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শুকনো বা বিবর্ণ বোঁটা দেখলে বুঝতে হবে শসাটি বেশ পুরোনো।
কেন খাবেন শসা?
শরীর ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখে
শসায় প্রায় ৯৫ শতাংশ পানি থাকে। তাই এটি গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমায়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
কম ক্যালরিযুক্ত হওয়ায় শসা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। ফলে অযথা ক্ষুধা কম পায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়
নিয়মিত শসা খেলে শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় থাকে, যা ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।
হজমশক্তি উন্নত করে
শসায় থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া সচল রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
শরীরকে ডিটক্স করে
শসা শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।
