তৃণমূলের চেয়ারপারসন পদ থেকে মমতাকে ‘অপসারণ’
তৃণমূল কংগ্রেসের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ঘোষণা করেছে যে তারা দলটির চেয়ারপারসন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে “অপসারণ” করেছে এবং একটি সমান্তরাল নেতৃত্ব কাঠামো গঠন করেছে।
বিরোধী গোষ্ঠী, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিরোধী দলনেতা রিতাব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দাবি করেছে যে তারা দলের বহু বিধায়ক ও সংগঠনিক নেতার সমর্থন পেয়েছে। তাদের আরও দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে কয়েকজন—যেমন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম—বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন।
এই ঘটনাগুলো ঘটে সোমবার (২২ জুন), যেদিন সদ্য গঠিত বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তাদের প্রথম বাজেট পেশ করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়করা কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে বৈঠকে বসেন। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতার প্রায় ৭০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বা সমর্থন জানিয়েছেন।
সেই বৈঠকে বিদ্রোহীরা ৩০ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয় এবং এটিকে তারা “আসল” তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ সাংগঠনিক কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করে।
সমান্তরাল নেতৃত্ব কাঠামো
বিদ্রোহের কেন্দ্রবিন্দু হলো ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠিত দলের নিয়ন্ত্রণ দখলের চেষ্টা। বিদ্রোহী গোষ্ঠী কণ্ঠভোটে বিধায়ক অরূপ রায়কে চেয়ারপারসন হিসেবে নির্বাচিত করে।
এরপর শীর্ষ নেতাদের নতুন কাঠামোতে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিনকে ভাইস-চেয়ারপারসন করা হয়। রিতাব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহাকে সাধারণ সম্পাদক এবং আখরুজ্জামান আনসারিকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়।
রিতাব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকের পর বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে অরূপ রায়কে দলীয় চেয়ারপারসন হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।”
