আইএইএ পরিদর্শকদের ইরানে ঢুকতে দিতে সম্মত হয়েছে তেহরান, দাবি ভ্যান্সের

ইরানের রাজধানী তেহরান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের আবার দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেডি ভ্যান্স।

তিনি সোমবার বার্গেনস্টক রিসোর্টে সাংবাদিকদের বলেন, সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার প্রথম দফার পর এই অগ্রগতি হয়েছে। সেখানে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ উপস্থিত ছিলেন।

ভ্যান্স বলেন, ইরানিরা তাদের দেশে আইএইএ পরিদর্শকদের আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হয়েছে।

তিনি এটিকে “যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য একটি বড় মাইলফলক” এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার প্রথম ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেন।

এই আলোচনা গত সপ্তাহে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার ভিত্তিতে দুই মাসের একটি আলোচনাপর্বের প্রথম ধাপ। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান এবং কাতার জানিয়েছে, দুই পক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একটি “রোডম্যাপ”-এ একমত হয়েছে।

এই আলোচনার মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত—যার মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অন্যতম প্রধান ইস্যু—সমাধানের চেষ্টা চলছে।

প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কমাবে, যা আইএইএ-এর তত্ত্বাবধানে “অন-সাইট ডাউন-ব্লেন্ডিং”-এর মাধ্যমে করা হতে পারে।

আইএইএ-এর হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ—যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মাত্রার খুব কাছাকাছি।

আইএইএ-এর সঙ্গে ইরান সহযোগিতা স্থগিত করেছিল ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর, এবং তখন থেকে পরিদর্শকরা ওই উপাদান দেখার সুযোগ পাননি।

ভ্যান্স জানান, পরিদর্শকদের ইরানে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা দ্রুত শুরু হবে—সম্ভবত একই সপ্তাহেই।

তিনি আরও বলেন, আলোচনার এই প্রথম ধাপ একটি “ভালো ভিত্তি” তৈরি করেছে, যদিও এখনও অনেক কাজ বাকি।

ভ্যান্সের ভাষায়, আমরা একটি সফল চূড়ান্ত চুক্তির জন্য খুব ভালো ভিত্তি তৈরি করেছি।”

তিনি আরও বলেন, আলোচনার লক্ষ্য শুধু পারমাণবিক ইস্যু নয়, বরং অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েও সমাধান খোঁজা।

তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখন আবার কার্যকরভাবে উন্মুক্ত, এবং সেখানে জ্বালানি সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে।

ভ্যান্স আরও বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের কিছু সম্পদ মুক্ত করা হলেও তা যেন সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারীরা নিয়ন্ত্রণ রাখবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জারেড কুশনার এবং কাতার এই আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি “সমাধান” তৈরি করেছে বলেও তিনি জানান।

ইরান ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের মুখে রয়েছে।

ভ্যান্স বলেন, সম্ভাব্য চুক্তি হলে এই সম্পদগুলো ইরানের জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা যাবে এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।