ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রিপাবলিকান সিনেটর
মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র রজার উইকার বৃহস্পতিবার ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যগুলো এই চুক্তির ফলে ক্ষুণ্ন হচ্ছে কি না।
এক বিবৃতিতে উইকার বলেন, প্রথম দিন থেকেই আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছি, যার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের অংশীদারদের প্রতি ইরানের ৪৭ বছরের হুমকির অবসান ঘটানো। কিন্তু আমি উদ্বিগ্ন যে এই সমঝোতা স্মারক ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অর্জিত বিজয়গুলো এমনভাবে সমঝোতার মাধ্যমে ছেড়ে দিচ্ছে, যা প্রেসিডেন্টের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
বুধবার ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এর আগে মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে পুরো চুক্তির পাঠ তুলে ধরেছিলেন।
৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল নিয়ে আপত্তি
উইকার বিশেষভাবে চুক্তির সেই ধারার সমালোচনা করেন, যেখানে বলা হয়েছে যে ইরান তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পুনর্গঠন তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে।
তিনি বলেন, এ ধরনের সুযোগ পেলে প্রেসিডেন্ট ওবামার ২০১৫ সালের চুক্তির অধীনে ইরান যে আর্থিক সুবিধা পেয়েছিল, তা তুলনামূলকভাবে খুবই নগণ্য বলে মনে হবে।
তিনি এখানে জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশনের (জেসিপিওএ) কথা উল্লেখ করেন, যা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন।
লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি নিয়েও সমালোচনা
উইকার ও অন্যান্য রিপাবলিকানদের আরেকটি আপত্তি হলো লেবানন ও ইসরায়েলকে ঘিরে যুদ্ধবিরতির কাঠামো।
গত তিন বছরে দুবার হিজবুল্লাহ লেবাননকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ হয়েছে।
উইকার বলেন, আমি মনে করি, ইরান-সমর্থিত সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য করা ভুল হবে। এই সংগঠনটি এখনো উত্তর সীমান্তে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের অবস্থান
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বারবার বলেছেন যে এই চুক্তি ইসরায়েলকে আত্মরক্ষার অধিকার ত্যাগ করতে বাধ্য করে না এবং দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকেও সরে যেতে বলে না।
ট্রাম্পও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, যদিও তিনি ইসরায়েলকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে জানিয়েছেন যে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ যেন আরও হিসাব-নিকাশ করে ও সংযতভাবে নেওয়া হয়।
আলোচকদের দিকেও ইঙ্গিত
উইকারের বক্তব্যে মনে হয়েছে যে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনারের দিকেও পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করেছেন। তারা প্রশাসনের পক্ষে ইরানের সঙ্গে আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
উইকার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার নীতি অনুসরণ করেছেন। আমি আশা করি, এই চুক্তিতে কাজ করা মধ্যস্থতাকারীরা সেই লক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন না।
