‘ইরানের সরকার ‘অক্ষত’ আছে, টিকে গেলে পুনর্গঠনের চেষ্টা করবে’
ইরানের সরকার ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছে, তবে এটি এখনও টিকে আছে এবং তেহরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থে হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে—বুধবার এমনটাই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড।
তিনি বলেন, “ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনও টিকে আছে, তবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর কারণে তা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে,”—এটি ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের উল্লেখ। তিনি এই মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির বার্ষিক ‘বিশ্বব্যাপী হুমকি’ শুনানিতে উদ্বোধনী বক্তব্যে।
তিনি আরও বলেন, “তবুও ইরান এবং তাদের মিত্ররা এখনও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থে হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে এবং তা চালিয়েও যাচ্ছে। যদি একটি বৈরী শাসন টিকে থাকে, তবে তারা দীর্ঘমেয়াদে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ইউএভি (ড্রোন) বাহিনী পুনর্গঠনের চেষ্টা করবে।”
এই শুনানিতে মূলত ইরান যুদ্ধের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, যা এখন তৃতীয় সপ্তাহে চলছে। অনেক আইনপ্রণেতা—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজ দলের কিছু রিপাবলিকানসহ ডেমোক্র্যাটরাও—এই বিমান হামলা সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে চান, কারণ এতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে, লাখো মানুষের জীবন ব্যাহত হয়েছে এবং জ্বালানি ও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসন কংগ্রেসকে যথেষ্ট তথ্য দিচ্ছে না, যদিও এই যুদ্ধে মার্কিন করদাতাদের বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। তারা গোপন ব্রিফিংয়ের পরিবর্তে প্রকাশ্য সাক্ষ্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এই শুনানিতে গ্যাবার্ড এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফসহ অন্যান্য কর্মকর্তার বক্তব্যের পাশাপাশি, গ্যাবার্ডের একজন শীর্ষ সহকারীর পদত্যাগের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের প্রধান জো কেন্ট এই যুদ্ধের প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন—যা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পদত্যাগ।
কেন্ট তার চিঠিতে লেখেন, “আমি বিবেকের দিক থেকে ইরানে চলমান যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারি না। ইরান আমাদের দেশের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না, এবং স্পষ্ট যে ইসরায়েল ও তাদের শক্তিশালী লবির চাপেই আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়েছি।”
হোয়াইট হাউস কেন্টের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে, এবং তার বক্তব্যকে “ভুল দাবি” বলে উল্লেখ করে।
গ্যাবার্ডের উপস্থাপিত হুমকি মূল্যায়ন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে কিছু কর্মকর্তা বলেছিলেন, ইরান কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হবে—যা বিমান হামলা শুরুর একটি কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
তবে বুধবার গ্যাবার্ড বলেন, জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এরপর থেকে তা পুনর্গঠনের কোনো প্রচেষ্টা দেখা যায়নি।
ট্রাম্পকে কী জানানো হয়েছিল?
আর্কানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন, যিনি কমিটির চেয়ারম্যান, তার বক্তব্যে ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলেন যে, ইরানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার পদক্ষেপ বিশ্বকে আরও নিরাপদ করেছে।
অন্যদিকে, ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, তারা কংগ্রেসকে যথাযথভাবে ব্রিফ করেনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গ্যাবার্ড যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী বিষয় তদন্তে মনোযোগ দিচ্ছেন, অথচ ইরান পর্যবেক্ষণের মতো কার্যক্রমে কর্মী কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কী তথ্য পেয়েছিলেন—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানায়, ট্রাম্পকে সতর্ক করা হয়েছিল যে ইরানে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা হতে পারে—যদিও ট্রাম্প সোমবার বলেছিলেন, তেহরানের প্রতিক্রিয়া তার জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল।
এছাড়াও, ট্রাম্পকে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল যে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে—এমন তথ্যও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
