‘মুর্খ’ ন্যাটোর সাহায্য লাগবে না বলে জানালেন ট্রাম্প

ইরান ইস্যুতে মঙ্গলবার ন্যাটোকে ‘মূর্খ’ বলে সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে মিত্রদের সাহায্যের প্রয়োজন নেই যুক্তরাষ্ট্রের, কারণ অনেক মিত্র দেশ এতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ট্রাম্প জানান, অধিকাংশ মার্কিন মিত্র জাহাজ নিরাপত্তা দিতে তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত ফ্রান্স কখনই এতে অংশ নেবে না।

ওভাল অফিসে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় ন্যাটো খুব বড় ভুল করছে। আমি অনেক দিন ধরেই ভাবছি, ন্যাটো আসলে আমাদের জন্য থাকবে কি না—এটি একটি বড় পরীক্ষা ছিল।”

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একাই ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত এবং ন্যাটোর মিত্ররাও একমত যে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মোকাবিলা করা প্রয়োজন।

“আমাদের খুব বেশি সাহায্যের দরকার নেই। আমাদের কোনো সাহায্যেরই দরকার নেই,”—বলেন ট্রাম্প।

বৈঠকের আগে তিনি তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ইরান যুদ্ধের জন্য মার্কিন বাহিনীর আর সামরিক সহায়তা প্রয়োজন নেই।

ট্রাম্প আরও বলেন, “অধিকাংশ” ন্যাটো মিত্র এই সংঘাতে জড়াতে চায় না, একইসঙ্গে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াও অংশ নিতে রাজি হয়নি। তিনি এই দীর্ঘদিনের সামরিক জোটকে “একতরফা” বলে আখ্যা দেন।

তিনি আবারও ন্যাটো নিয়ে নিজের পুরোনো সমালোচনা পুনরাবৃত্তি করেন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে সদস্য দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ দিচ্ছেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “তিনি সহায়তা করছেন না, এবং আমি মনে করি এটি একটি বড় ভুল।”

অন্যদিকে ম্যাক্রোঁ সম্পর্কে তিনি বলেন, “তিনি শিগগিরই ক্ষমতা ছাড়বেন।”

এর আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সাহায্য করতে পারে, কিন্তু ম্যাক্রোঁ মঙ্গলবার স্পষ্ট করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্রান্স এই অভিযানে অংশ নেবে না; তবে পরিস্থিতি শান্ত হলে একটি এসকর্ট ব্যবস্থাতে অংশ নিতে পারে।

ইরান ইতোমধ্যে প্রতিবেশী তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী ট্যাঙ্কারগুলোকে হুমকি দিয়েছে, ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে—যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়।

ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের সময়কাল ও লক্ষ্য নিয়ে কিছুটা অস্পষ্ট অবস্থান বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, ইরানের “প্রকৃত শীর্ষ নেতা” গতকাল নিহত হয়েছেন—যা সম্ভবত আলি লারিজানিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, ইরান বিষয়টি তার কাছে “শুধু একটি সামরিক অভিযান” এবং “খুব শিগগিরই আমরা সেখান থেকে চলে যাব,” তবে যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলেননি।

“আমরা চেষ্টা করব এমন লোক খুঁজে বের করতে, যারা দেশটি ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারবে,”—বলেন তিনি।

এদিকে ২৮ ফেব্রুয়ারির যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়, এবং তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যদিও তিনি আহত হয়েছেন বলে খবর রয়েছে।