যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট তেল অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে: ইরান

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শনিবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেল অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। ইরানের তেলকেন্দ্র খার্গ দ্বীপে (Kharg Island) যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর এমন ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।

ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়াটার্স (Khatam al-Anbiya Central Headquarters) এক বিবৃতিতে জানায়—যদি ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করা কোম্পানিগুলোর তেল ও জ্বালানি অবকাঠামো “তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে ছাইয়ে পরিণত করা হবে”।

সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি (Fars News Agency) ও তাসনিম নিউজ এজেন্সি (Tasnim News Agency) এ খবর প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, এটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া।

এর আগে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন যে খার্গ দ্বীপে চালানো হামলায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো “সম্পূর্ণ ধ্বংস” হয়ে গেছে।

তিনি আরও হুমকি দিয়েছিলেন যে যদি তেহরান কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি না দেয়, তাহলে খার্গ দ্বীপের তেল অবকাঠামোতেও হামলা করা হবে। এই প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি পরিচালনা করে, এমন তথ্য দিয়েছে JPMorgan-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ।

এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।

এদিকে ইরানের হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী ও সরকারগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে—কারণ এতে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।