ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বানে চটলেন আমিরাতি ধনকুবের
আমিরাতি ধনকুবের খালাফ আল হাবতুর যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের ওপর বেজায় চটেছেন। গ্রাহাম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে উপসাগরীয় দেশগুলোকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে আল হাবতুর বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোকে এই সংঘাতে জড়ানো উচিত নয়। তিনি দাবি করেন, আরব দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ না করেই নেওয়া সিদ্ধান্তের মূল্য ইতোমধ্যে অঞ্চলটিকে দিতে হচ্ছে।
গ্রাহাম এই মন্তব্য করেন একটি গোপন কংগ্রেসীয় ব্রিফিংয়ের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। সেখানে তিনি বলেন, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার কারণে ওয়াশিংটনের আরব মিত্ররা হয়তো সংঘাতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র একা যুদ্ধ করবে না,” এবং উল্লেখ করেন যে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি বৃহত্তর কৌশলগত জোটের অংশ।
এর জবাবে আল হাবতুর বলেন, বিদেশি শক্তিগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর যুদ্ধে জড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে।
তিনি লিখেছেন, “আমরা খুব ভালো করেই জানি কেন আমাদের ওপর হামলা হচ্ছে, এবং এটাও জানি কে পুরো অঞ্চলকে এই বিপজ্জনক উত্তেজনার মধ্যে টেনে এনেছে—মিত্রদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই।”
আমিরাতি এই ব্যবসায়ী বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর বাইরের সুরক্ষার প্রয়োজন নেই এবং বৃহত্তর যুদ্ধে অঞ্চলের মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়।
তিনি বলেন, “আমাদের সন্তানদের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই, এবং কোনো জোটই তাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
আরও বলেন, “আমাদের আপনার সুরক্ষার দরকার নেই… আমরা শুধু চাই আপনারা আমাদের থেকে দূরে থাকুন।”
আল হাবতুর বিশ্ব অস্ত্র ব্যবসার ভূমিকাও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অস্ত্র বিক্রি অনেক সময় সুরক্ষার চেয়ে বড় ব্যবসা হয়ে দাঁড়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতগুলো আন্তর্জাতিক অস্ত্র শিল্পকে লাভবান করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গ্রাহাম আমেরিকান জনগণের স্বার্থের চেয়ে ইসরায়েলের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার মতে, অঞ্চলের দেশগুলো যুদ্ধ নয় বরং শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক সমাধান চায়।
