মার্কিন নির্ভরতা কমাতে গাড়ি শিল্পের নতুন পরিকল্পনা উন্মোচন কানাডার
মার্ক কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের গাড়ি শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং বৈদ্যুতিক যান (ইভি) খাতে রূপান্তরকে সহায়তা করার জন্য একটি নতুন পরিকল্পনা উন্মোচন করেছেন। মার্কিন শুল্কের চাপের মুখে পড়ে খাতটি যখন বিপর্যস্ত, তখনই এই ঘোষণা আসে।
বৃহস্পতিবার ঘোষিত এই নতুন উদ্যোগগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে কানাডার সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের ভেতরে আরও বেশি গাড়ি উৎপাদনের ওপর জোর দিচ্ছেন।
কার্নির কৌশলের মধ্যে রয়েছে কানাডায় বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে গাড়ি নির্মাতাদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য ভর্তুকি (রিবেট) পুনরায় চালু করা।
গত বছর ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপ করেন। এই শুল্ক কানাডার গাড়ি উৎপাদন খাতে বড় ধাক্কা দেয়, কারণ দেশটিতে উৎপাদিত প্রায় ৯০% গাড়িই যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গাড়ি কোম্পানির কানাডায় কার্যক্রম রয়েছে, যা দীর্ঘদিনের একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় গড়ে উঠেছে। ফলে দুই দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্র–কানাডা–মেক্সিকো (USMCA) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি এ বছর পর্যালোচনার মুখে পড়বে। তবে উত্তর আমেরিকা জুড়ে শুল্ক তুলে দেওয়াই যে চুক্তিটির মূল উদ্দেশ্য ছিল, তা এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্য নয়—বৃহস্পতিবার টরন্টোর একটি গাড়ি কারখানায় এ কথা বলেন কার্নি। “তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে,” তিনি বলেন।
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের সব ধরনের সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”
ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে জেনারেল মোটরস ও স্টেলান্টিসসহ বড় গাড়ি নির্মাতারা কানাডায় উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় হাজার হাজার কানাডীয় অটো শ্রমিক তাদের চাকরি হারিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ঘোষিত কার্নির উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি নতুন শুল্ক ব্যবস্থা, যার আওতায় জেনারেল মোটরস ও টয়োটার মতো কোম্পানিগুলো যদি কানাডায় গাড়ি উৎপাদন করে, তবে তারা শুল্ক ব্যয়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশেষ ক্রেডিট সুবিধা পাবে।
