ইলন মাস্ক কে এবং তার সম্পদের পরিমাণ কত?
এমন কোনো দিন যেন যায় না, যেদিন কোটিপতি ইলন মাস্ক খবরের শিরোনামে থাকেন না—আর ভবিষ্যতে হয়তো আমরা তাকে ট্রিলিয়নেয়ার বলেও ডাকতে পারি।
টেসলা, স্পেসএক্স এবং এক্স (সাবেক টুইটার)-এর প্রধান ইলন মাস্ক বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৫-এ তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হন (প্রায় ৩৭০.৯ বিলিয়ন পাউন্ড)। এক মাস পর টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা এমন একটি রেকর্ডভাঙা পারিশ্রমিক প্যাকেজ অনুমোদন করেন, যার মূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
মাস্ক তার প্রতিষ্ঠান নিউরালিংকের মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্কে চিপ বসানোর পরীক্ষা এগিয়ে নিয়েছেন এবং দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতেও বড় ভূমিকা রাখতে চেয়েছেন—যদিও তিনি নিজেই সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রযুক্তি মানবজাতির বিলুপ্তির কারণও হতে পারে।
তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিষয়ে, বিশেষ করে রাজনীতি নিয়ে, খোলামেলা মতামত দেওয়ার জন্যও পরিচিত।
২০২৪ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর তার প্রভাব আরও বেড়ে যায়। এই নির্বাচনে টেসলা প্রধান মাস্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিতর্কিত ভূমিকা রাখেন। তবে পরে তাদের সম্পর্ক তিক্ত বিবাদে ভেঙে পড়ে।
শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়—যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের সমসাময়িক রাজনীতি নিয়েও মাস্কের পোস্ট ও মন্তব্য প্রায়ই সেসব দেশের রাজনীতিবিদদের ক্ষোভের কারণ হয়েছে।
তবে রাজনীতিতে জড়ানোয় তার ব্যবসার ক্ষতিও হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে টেসলার বিক্রি কমে যাওয়ার পেছনে আংশিকভাবে মাস্কের প্রতি গ্রাহকদের বিরূপ মনোভাব দায়ী।
এখন মাস্ক তার কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী করতে স্পেসএক্স ও xAI একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান বেসরকারি কোম্পানি তৈরি করা যায়।
ইলন মাস্ক কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
ইলন মাস্কের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিভার পরিচয় দেন—ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘরে বানানো চকোলেট ইস্টার ডিম বিক্রি করতেন এবং ১২ বছর বয়সে নিজের প্রথম কম্পিউটার গেম তৈরি করেন।
তিনি তার শৈশবকে কঠিন বলে বর্ণনা করেছেন—মা-বাবার বিচ্ছেদ, স্কুলে নির্যাতন এবং অ্যাসপারগার সিনড্রোমের কারণে সামাজিক সংকেত বুঝতে অসুবিধার কথা উল্লেখ করেছেন।
প্রথম সুযোগেই তিনি বাড়ি ছেড়ে পড়াশোনার জন্য কানাডা এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে তিনি আইভি লিগভুক্ত ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় অর্থনীতি ও পদার্থবিজ্ঞান পড়েন।
২০১০ সালে ম্যারি ক্লেয়ার ম্যাগাজিনে লেখা এক প্রবন্ধে তার প্রথম স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক লেখেন, কোটিপতি হওয়ার আগেই মাস্ক ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি “না” শব্দটি মেনে নিতেন না।
তিনি স্মরণ করেন, বিয়ের আসরে নাচতে নাচতে মাস্ক তাকে বলেছিলেন,
“এই সম্পর্কে আমি-ই আলফা।”
ইলন মাস্ক কীভাবে তার অর্থ উপার্জন করেছেন?
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তি হলেও মাস্ক দ্রুত পড়াশোনা ছেড়ে দেন এবং ১৯৯০-এর দশকের ডটকম বুমের সময় দুটি প্রযুক্তি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠা করেন।
এর মধ্যে ছিল একটি ওয়েব সফটওয়্যার কোম্পানি এবং একটি অনলাইন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, যা পরে পেপ্যাল হয়। ২০০২ সালে এটি ইবে ১.৫ বিলিয়ন ডলারে কিনে নেয়।
এই অর্থ তিনি বিনিয়োগ করেন স্পেসএক্সে—যার লক্ষ্য ছিল নাসার বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী রকেট তৈরি—এবং টেসলায়, যেখানে তিনি ২০০৮ সালে সিইও হন।
এই দুই কোম্পানি নিজ নিজ শিল্পে বিপ্লব ঘটায়, যদিও একাধিকবার আর্থিক ধসের মুখেও পড়ে।
২০২২ সালের অক্টোবরে তিনি টুইটার কিনে নেন। কর্মী সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমান, কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে এক্স রাখেন এবং বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন সাবস্ক্রিপশন চালু করেন।
তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এক্স-কে একটি “সবকিছু করার অ্যাপ”-এ রূপান্তর করা। তবে কিছু হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানিটির মূল্য ৪৪ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে মাত্র ৯.৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
এই সময়ে বহু প্রতিষ্ঠান প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে চলে যায়—যাকে বলা হয় “গ্রেট এক্স-ওডাস”।
তিনি এআই খাতেও সক্রিয়। ২০১৮ সালে ওপেনএআই থেকে আলাদা হওয়ার পর ২০২৩ সালে তিনি xAI প্রতিষ্ঠা করেন “মহাবিশ্বের প্রকৃত স্বরূপ বোঝার” লক্ষ্যে।
২০২৪ সালে তিনি ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং এক বছর পর সেটি অধিগ্রহণের চেষ্টা করলেও স্যাম অল্টম্যান তা প্রত্যাখ্যান করেন।
ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ কত?
এইসব বৈপরীত্য সত্ত্বেও ইলন মাস্ক বিপুল সম্পদ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
কোটিপতিদের সম্পদের হিসাব রাখা ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৫ সালে তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হন (প্রায় ৩৭০.৯ বিলিয়ন পাউন্ড)।
ব্লুমবার্গের হিসাবে, ইলন মাস্কের আনুমানিক মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬৭০ বিলিয়ন ডলার, যা তাকে বিশ্বের শীর্ষ ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের—গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, ওরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং ফেসবুকের নির্মাতা মার্ক জাকারবার্গ—অনেক ওপরে স্থান দেয়।
টেসলার পরিচালনা পর্ষদ এমন একটি চুক্তি অনুমোদন করেছে, যার আওতায় আগামী এক দশকে নির্ধারিত উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে মাস্ক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পারিশ্রমিক প্যাকেজ পেতে পারেন।
এই লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে— টেসলার বাজারমূল্য আট গুণ বৃদ্ধি করা, ১০ লাখ এআই রোবট বিক্রি করা, এবং আরও ১ কোটি ২০ লাখ টেসলা গাড়ি বিক্রি করা।
২০২৪ সালজুড়ে টেসলার কাছ থেকে প্রস্তাবিত ৫৬ বিলিয়ন ডলারের পারিশ্রমিক প্যাকেজ নিয়ে মাস্ক একটি আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন। ডেলাওয়্যারের এক বিচারক ডিসেম্বর মাসে দ্বিতীয়বারের মতো তার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।
বিচারক ক্যাথলিন ম্যাককরমিক এই অর্থকে “অকল্পনীয় অঙ্ক” বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, মাস্ক কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ও শেয়ারহোল্ডারদের ওপর প্রভাব খাটিয়েছেন—যদিও শেয়ারহোল্ডারদের ৭৫ শতাংশ তার পারিশ্রমিক চুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
মাস্ক ডিজিটাল মুদ্রারও সমর্থক এবং টানেল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান দ্য বোরিং কোম্পানিসহ আরও কয়েকটি ছোট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত।
নিজেকে একজন নিরলস পরিশ্রমী হিসেবে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরা মাস্ক বহুবার বলেছেন, তিনি কেবল অর্থ উপার্জনের জন্য ব্যবসা করেন না—এই দাবি তিনি সাম্প্রতিক সময়ে টুইটার অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও পুনরাবৃত্তি করেছেন।
তার বন্ধু ও টেসলার বিনিয়োগকারী রস গারবার বলেন,
“ইলন কোনো কাজে জড়ান শুধুমাত্র তখনই, যখন তিনি মনে করেন সেটি কোনো কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—সমাজ বা মানবজাতির স্বার্থে।”
কেন ইলন মাস্ক ট্রাম্পের সঙ্গে জোট বেঁধেছিলেন?
২০০২ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পর দীর্ঘদিন ইলন মাস্ক তার রাজনৈতিক পরিচয়কে নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তিনি নিজেকে কখনো “অর্ধেক ডেমোক্র্যাট, অর্ধেক রিপাবলিকান”, কখনো “রাজনৈতিকভাবে মধ্যপন্থী”, আবার কখনো “স্বাধীন” বলে উল্লেখ করতেন।
তিনি জানান, অতীতে তিনি বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিনটন এবং অনিচ্ছাসত্ত্বেও জো বাইডেনকে ভোট দিয়েছেন—যারা সবাই ডেমোক্র্যাট।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন দেন।
২০২৪ সালে ট্রাম্পের ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য সমর্থন জানান এবং নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম প্রধান সমর্থক ও প্রভাবক হয়ে ওঠেন।
অর্থনীতি, অভিবাসন ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট পার্টির অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি এবং দলটির বহু নীতিকে “ওক” বলে আখ্যা দেন।
মাস্কের আমেরিকা সুপার প্যাক নির্বাচনের শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে ভোটারদের জন্য বিতর্কিত ১০ লাখ ডলারের লটারি/উপহার কর্মসূচি চালায়। পাশাপাশি তিনি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায়ও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাস্ককে তার তথাকথিত “ফার্স্ট বাডি” হিসেবে নতুন ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি (ডোজ)-এর প্রধান নিযুক্ত করেন।
এই উদ্যোগের আওতায় সরকারি ব্যয়ে ব্যাপক—এবং অত্যন্ত বিতর্কিত—ছাঁটাই করা হয়।
তবে কর ও ব্যয় বিল নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধের পর দুই বিলিয়নেয়ারের বন্ধুত্ব ভেঙে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা একে অপরকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে শুরু করেন।
মাস্ক ২৮ মে হোয়াইট হাউস ছাড়ার ঘোষণা দেন।
এরপর তিনি এক্স-এ অনুসারীদের জিজ্ঞেস করেন, নতুন কোনো রাজনৈতিক দল বর্তমান ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করা উচিত কি না। একই সঙ্গে তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন যে ট্রাম্পের নাম মৃত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের অপ্রকাশিত নথিতে রয়েছে—যার ফলে সম্পর্ক আরও খারাপ হয়।
হোয়াইট হাউস এই অভিযোগের নিন্দা জানায়, আর ট্রাম্প বলেন, মাস্কের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তুকি ও সরকারি চুক্তি বাতিল করলে সরকার অর্থ সাশ্রয় করতে পারে।
এর জবাবে মাস্ক ট্রাম্পের অভিশংসনের আহ্বান জানান এবং নাসার ওপর নির্ভরশীল তার ড্রাগন মহাকাশযান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন—যদিও পরে দ্রুতই সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
পরবর্তীতে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, টেসলা প্রধানের সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ।
ইলন মাস্কের কয়টি সন্তান রয়েছে?
একসময় মাস্ক বলেছিলেন, তার ব্যবসাগুলো এক ধরনের দাতব্য কাজ, কারণ এগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বড় মানবিক সমস্যার সমাধানে কাজ করে।
তবে পরবর্তীতে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তার অবস্থান কিছুটা নরম হয়। তিনি টুইট করেন, এটি “বাস্তব, তবে আতঙ্কবাদীরা যেভাবে দাবি করেন ততটা দ্রুত নয়।”
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করলেও, অতিবুদ্ধিমান এআই মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি অন্যতম।
তার দাবি, এআইয়ের উত্থান এবং জন্মহার কমে যাওয়া মিলিয়ে বিশ্বে “মানুষের সংখ্যা অপর্যাপ্ত” হয়ে যেতে পারে।
ইলন মাস্ক মোট ১৪ সন্তানের জনক— প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ৬ জন, কানাডীয় সংগীতশিল্পী গ্রাইমসের সঙ্গে ৩ জন, শিভন জিলিসের সঙ্গে ৪ জন, রক্ষণশীল ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারের সঙ্গে ১ জন
শিভন জিলিসের সঙ্গে যমজ সন্তানের জন্মের পর তিনি টুইট করেন, “জনসংখ্যা হ্রাস সংকট মোকাবিলায় আমি আমার সেরাটা দিচ্ছি।”
অন্যদিকে, অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার জানান, তিনি ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে মাস্কের সন্তানের জন্ম দেন। পরে জানুয়ারি ২০২৬-এ এক্স-এ গ্রক ব্যবহার করে তার যৌনায়িত ডিপফেক তৈরি করা হয়—এ অভিযোগে তিনি মাস্কের প্রতিষ্ঠান xAI-এর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
